বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ১২:০৪ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় ছাত্রলীগ সভাপতিকে গণধোলাই!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় গণধোলাইয়ের শিকার উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রিজভী আলম রানাসহ আটকদের নিয়ে যাচ্ছে বিজিবি।

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চাঁদাবাজি ও ৬০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানাসহ ১০ জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয় বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর বিট-খাটালে চাঁদাবাজির সময় তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল মাসুদপুর বিট-খাটালের অতর্কিত হামলা চালায় এবং বিট-খাটালের লোকজনকে মারধর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছুরির আঘাতে ফয়সাল নামে এক খাটালকর্মী আহত হন।

মাসুদপুর বিট-খাটাল মালিক রুবেল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রানা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আজ (মঙ্গলবার) তারা আমাদের খাটালে হঠাৎ করেই হামলা চালায় এবং কালেকশনের ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। বাধা দেয়ায় আমার এক কর্মীকে ছুরি মেরে আহত করেছে।

‘তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ৯-১০ জনকে ধরে আটক করে পিটুনি দেয়। এ সময় ৫-৬ জন পালিয়ে যায়। স্থানীয় বিজিবিকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তারা এসে রানাসহ বাকিদের আটক করে নিয়ে যায়।’

৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মাসুদপুর বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার শাহাদৎ হোসেন জানান, গত রাতে ভারত থেকে মাসুদপুর খাটালে ৯২০টি গরু আসে। সকাল থেকে সেসব গরুর কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা কালেকশন চলছিল। এ সময় অতর্কিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা এবং কয়েকজন কালেকশনের টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। বাকিদের স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের আটক করি। আটককৃত ১০জনকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছি। বিট-খাটাল মালিক রুবেল আহমেদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানান ক্যাম্প কমান্ডার শাহাদৎ হোসেন।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানা ওসি সিকদার মশিউর রহমান জানান, ওদের আটক করেছে বিজিবি। এখনো মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়ের শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রেজা ইমন জানান, বিষয়টি আমি ফোনে শুনেছি, সামাজিক মাধ্যমেও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি, সে যদি জড়িত থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নবীনূর রহমানকে ধরে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com