বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

শ্রমিক সংগঠনের নামে গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি

ফাইল ফটো

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গরুর ট্রাক থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনের নামে গরুর ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ট্রাকচালক ও বেপারিরা জানান, এখন পুলিশ টাকা না নিলেও শ্রমিক সংগঠনের লোক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঢাকার গাবতলী গরুর হাটেও নীরবে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার গাবতলী হাটে রংপুর থেকে গরু নিয়ে আসা ট্রাকচালক কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রংপুর থেকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছি। রাস্তায় কয়েকটি স্পটে আরও ১৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, রংপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছতে গরুপ্রতি প্রায় তিন হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। এ টাকা ক্রেতাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ট্রাকচালক জায়েদুর রহমান রাজশাহীর সিটির হাট থেকে গরু নিয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘টিভিতে দেখছি পুলিশকে তাদের বড় স্যার হুশিয়ার করে দিয়েছে রাস্তায় কোনো চান্দাবাজি করা যাবে না। এ কারণে এবার পুলিশ কোনো ডিস্টার্ব করছে না। তবে শ্রমিক সংগঠনের নামে পথে পথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছতে পাঁচটি স্পটে টাকা দিতে হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নামে ১০০, ২০০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার চাঁদাও দিতে হচ্ছে। ট্রাকচালক আব্দুর রশিদ বলেন, সড়কে চাঁদা দিতেই হচ্ছে।

তবে এবার পুলিশ রাস্তায় গাড়ি থামানোর জন্য সংকেত দিচ্ছে না। বগুড়ার ট্রাকচালক আব্দুর রহমান বলেন, রংপুর থেকে গরু নিয়ে আসার পথে মিঠাপুকুর এলাকায় এবং সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর আগেসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাক আটকিয়ে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা নেয়া হয়।

রাজশাহী থেকে গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে শ্রমিক সংগঠনকে আড়াইশ’ টাকা, পটিয়ায় ৫০, নাটোরে ১০০, সিরাজগঞ্জে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

এছাড়া আরও কয়েকটি পয়েন্টে টাকা দিতে হয়েছে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ থেকে পদ্মা পার হয়ে আসা বেপারি ও ট্রাকচালকরা বলেন, পুলিশের চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তবে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ব্যবসায়ী দবিরুল মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ায় শ্রমিক সমিতিকে ১০০ টাকা, ঝিনাইদহে ১০০ টাকা, আর দৗলতদিয়া প্রান্তে ফেরিতে সিরিয়ালের জন্য ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। তবে ঘাট পার হয়ে কোথাও কোনো টাকা দিতে হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাস্তায় কোরবানি পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজির খবর পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, এবার প্রতিটি পশুবাহী গাড়িতে নির্দিষ্ট হাটের নাম লেখা স্টিকার লাগানো থাকবে। কেউ ইচ্ছা করলেই এক হাটের পশু অন্য হাটে নামাতে পারবে না। এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাক থামাতে পারবে না পুলিশ সদস্যরা।

কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে যেন কোনো অভিযোগ না আসে। আইজিপির এ নির্দেশনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন। এতে চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গরুবাহী ট্রাকে নীরব চাঁদাবাজি চলছে। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী মুখ খোলেন না। চাঁদা পরিশোধ করেই তারা ব্যবসা করছেন। বগুড়ার পাঁচটি স্পটে চাঁদাবাজি চলছে। প

শুবাহী যানবাহন রাতে বেশি চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরুবাহী যানবাহন পৌঁছতে পথে পথে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি স্পটে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী টাঙ্গাইল শহরের বাইপাস, করটিয়া ও মির্জাপুরে ট্রাক মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন চাঁদা আদায় করছে। দৌলতদিয়া ঘাটের আগ পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে শ্রমিক নেতাদের নামে বকশিশ নেয়া হচ্ছে।

গাবতলী হাটে ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন মেহেরপুরের গাংনীর ইয়ারুল ইসলাম, বুলবুল আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার অভিযোগ করে তারা বলেন, হাটে গরু রাখার অজুহাতে একদল যুবক তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাচ্ছে।

ইয়ারুল বলেন, সকালে দু’জন জানিয়ে গেছে সন্ধ্যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। নতুবা বাজারে গরু রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, তাদের নাম জিজ্ঞেস করেছি কিন্তু তারা নাম বলেনি। বুলবুল বলেন, র‌্যাব-পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়া নিয়েও ভয়ে আছি। যদি হিতে বিপরীত হয়। সাখাওয়াত বলেন, পুলিশের নামে কোথাও চাঁদা দিতে হয়নি। পুলিশ গাড়িও আটকায়নি। তবে শ্রমিক সংগঠনের নামে সড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে।

গাবতলী গরুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাব ও পুলিশ অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোজ্জাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, গাবতলী গরুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাব।

গরুরহাটে যে সব বেপারি বাইরে থেকে আসে তারা যাতে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইয়ের শিকার না হয়, কেউ যাতে অতিরিক্ত হাসিল না আদায় করতে পারে, কেউ যাতে চাঁদাবাজি করতে না পারে সে ব্যাপারে র‌্যাব তৎপর রয়েছে।

গাবতলী গরুর হাটে বেপারিদের কাছে গোপনে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তবে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আমরা এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনব। যুগান্তর


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com