শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

জালিয়াতি রোধে সতর্কতা: এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

ছবি সংগৃহিত

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতেও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে কোনো ধরনের জাল-জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহককে সচেতন করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

অনলাইনভিত্তিক লেনদেনে গ্রাহক যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পাহারাদারের সতর্কাবস্থানসহ অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকিং লেনদেনে জালনোট প্রতিরোধে আটটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছে। যেখানে বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাংকগুলোকে তাদের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বুথের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ই-পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। এসব লেনদেনে কোনোভাবেই গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা চালু রাখা, বুথের কারিগরি ত্রুটি দ্রুততম সময়ে সমাধান করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ এবং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

এছাড়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী সব ব্যাংক এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নিশ্চিত করতে হবে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন । এক্ষেত্রে যে কোনো অংকের লেনদেনের তথ্য এসএমএস অ্যালার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে জানাতে হবে গ্রাহকদের। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সব ধরনের সেবার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের সতর্কতা অবলম্বনে গণমাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। গ্রাহককে প্রতারিত করা যাবে না এবং সার্বক্ষণিক হেল্প লাইন সহায়তা দিতে হবে।

এছাড়া ব্যাংকিং লেনদেনে জালনোট প্রতিরোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সব শাখায় উন্নত প্রযুক্তির জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জাল ও আসল নোটের পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্যাশ কাউন্টারে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। স্বচ্ছতার জন্য ক্যাশ কাউন্টারে গ্রাহকদের দৃষ্টিগোচরযোগ্য স্থানে ক্যাশ গণনা করতে হবে। ব্যাংকের ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বহিরাগতদের নিজস্ব টাকা-পয়সা একটি রেজিস্টারে লিখে চেকিংয়ের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুনঃপ্রচলিত পূর্ণ নোট প্যাকেটে উপযুক্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ব্যাংকের নিজস্ব ফ্লাইলিফ সন্নিবেশিত করতে হবে। পেমেন্ট পাওয়ার পর টাকা গুনে নেয়ার পরামর্শ সংবলিত নোটিশ কাউন্টারে ডিসপ্লে করতে হবে।
কাউন্টারে টাকা গণনার সময় জালনোট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের টাকা দেয়ার সময় সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে ডুয়াল ডিসপ্লে কাউন্টিং মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com