বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

ক্রেতা নেই, কুশিয়ারা নদীতে ভাসলো সাড়ে তিনশ চামড়া

ফাইল ছবি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সিলেটের বালাগঞ্জে চামড়া কেনার ক্রেতা না পাওয়ায় বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে প্রায় সাড়ে তিনশ চামড়া ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা।

চামড়া কেনার লোক না পাওয়ায় সারাদিন এবং রাতে পাহারা দিয়ে অপেক্ষার পর বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পাঁচটি মাদরাসার প্রায় চার শতাধিক চামড়া কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

এরমধ্যে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জ ফিরোজাবাগ মাদরাসার ১১৯টি, বালাগঞ্জ মহিলা মাদরাসার প্রায় ১০০টি, তিলকচানপুর আদিত্যপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ৩৪টি, নতুন সুনামপুর মাদরাসার ৭০টি ও দক্ষিণ গৌরীপুর মাদরাসার ২৭টি চামড়া নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

ফিরোজাবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালিক ও মহিলা মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুল বাতিন বলেন, ঈদের দিন সোমবার দুপুর থেকে পশুর চামড়াগুলো মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাদরাসার রাস্তায় রাখা হয়। কেউই এসব চামড়া কিনতে আসেনি। চামড়ার দুর্গন্ধে বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না মানুষ। এজন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি আমরা। চামড়া পুঁতে ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই কুশিয়ারা নদীতে চামড়াগুলো ভাসিয়ে দিয়েছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, জানি না কেন গরিব ও এতিমদের হক নষ্ট করে চামড়ার সিন্ডিকেট করেছে তারা। যারা এমন কাজ করেছে কাল হাশরের মাঠে হিসাব দেয়া লাগবে তাদের। এতিমের হক নষ্ট করেছেন আপনারা। আল্লাহ আপনার অবশ্যই বিচার করবেন।

মাওলানা আব্দুল মালিক বলেন, চামড়ার দরপতনের পেছনে কওমি মাদরাসা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্দুল মুনিম বলেন, চামড়ার বিষয়টি মাদরাসার শিক্ষকরা আমাকে জানালে আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল সাকিব বলেন, বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com