বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫৬০০!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬শ’। যা এককভাবে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর রেকর্ড।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৩ সালে। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা, দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় গত কয়েক বছর ধরে উপজেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে বিদ্যালয়টি।

প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক ভর্তির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক অপ্রতুলতা ও কক্ষ সংকট রয়েছে বিদ্যালয়টিতে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাজেদা সুলতানা জানান, দেশে ৬০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী রয়েছে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত শিক্ষার্থীর চাপ বেড়েই চলেছে। এতে একদিকে তারা যেমন আনন্দিত অন্যদিকে শঙ্কিত।

শঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, স্কুলের অবকাঠামো ও জনবলের সক্ষমতার চেয়ে প্রতিবছর কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এখানে ভর্তি হতে চায়। এটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা বড় সাফল্য। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ভর্তি নিতে গেলে সমস্যা হচ্ছে। এখানে ভর্তির জন্য প্রচুর তদরিব আসে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এশিয়ার সর্ববৃহৎ গার্মেন্টস পল্লীখ্যাত কালিগঞ্জের শেষপ্রান্তে অবস্থিত বিদ্যালয়টি। প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেয়ালের গায়ে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন মনীষীর ছবি। নানা কবিতা, ছড়া ও নীতিবাক্য লেখা রয়েছে দেয়ালজুড়ে।

বঙ্গবন্ধু ভবন, নজরুল ইসলাম ভবন, রবীন্দ্রনাথ ভবন ও দুই তলা পুরনো একটি ভবনসহ ৪টি ভবন রয়েছে। শ্রেণি কক্ষ রয়েছে ৩৩টি। ভবনগুলোর উপরে করা হয়েছে ছাদবাগান। যেখানে বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ শোভা পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাকি বিল্লাহ জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ২০ জন শিক্ষক থাকার কথা। বর্তমানে রয়েছেন ৩৩ জন। ১৩ জন শিক্ষক বেশি থাকার পরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জন্য আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষক প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শ্রেণি কক্ষের কিছুটা সংকট থাকলেও অচিরেই তা কেটে যাবে। দোতলা যে ভবনটি রয়েছে সেটি ভেঙ্গে ৬ তলা ভবন করা হবে।

তিনি আরও জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে বেশকিছু ব্যতিক্রম কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেমন- ক্ষুদে ডাক্তার কর্মসূচি, মা সমাবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক ক্লাব। স্কুলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শিক্ষার্থীরা নিজেরাই দলবেঁধে করে থাকে।

ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জ্ঞান দেয়া হয়। মাসে একবার মা সমাবেশ হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবকরা সহজে অংশ নিতে পারে।

সাংস্কৃতিক ক্লাবের মাধ্যমে নিয়মিত নাচ, গান, বাদ্যযন্ত্র শেখানো হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে এখানকার শিক্ষার্থীরা পারফর্ম করে থাকে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কারণে দুবার দেশসেরা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালার চেয়েও কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক বেশি দেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা পরিষদ সমন্বয় করে এটা করেছে। তারপরও শিক্ষার্থীর তুলনায় আরও শিক্ষক প্রয়োজন। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি ছয়তলা ভবনও শিগগিরই নির্মাণ করা হবে। এতে কক্ষ সংকট আর থাকবে না।

শাহীন আহমেদ বলেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে, দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে কেরানীগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com