রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:২১ অপরাহ্ন

আবরার হত্যাকন্ড ও মায়েদের আহাজারি

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী)

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী) :: আবরার হত্যাকাণ্ডের পর যতবার ফেবু কিংবা টিভির সামনে বসেছি,কলিজাটায় একটা মোচড় টের পেয়েছি। এতো আবেগময় সব লিখা পড়ে চোখের পানি ধরে রাখা আসলেই মুস্কিল । আমার মেয়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু বুয়েটে পড়ে। ওরা সবাই আবরারের এক বছরের সিনিয়র । একজন আবরারের ডিপার্টমেন্টে আছে। আগামী ১৯ তারিখ ওদের ফাইনাল পরীক্ষা ।

আবরার হয়তো রাত জেগে অংক করছিল,কতো প্রস্তুতি হয়তো নিয়ে রেখেছিল।ঐ দিন নামাজ পড়ে হয়তো পরম করুণাময়ের কাছে ভালো রেজাল্টের জন্য মোনাজাতও করেছিল। আবরারের জায়নামাজ আর অংকের খাতা দেখে এসব ভাবছিলাম ।
এমন সময় আমার মেয়ে বললো, আচ্ছা মামনি, ওরা সবাই এক সাথেই তো ক্লাস করে,সহপাঠী-বন্ধু । অথচ একই ক্লাসে কে কাকে কখন কেনো হত্যা করবে কেউ জানে না । তাই না মা?
আমি সাথে সাথে বললাম, না না মামনি, বন্ধু যারা,যারা সহপাঠী, সিনিয়র জুনিয়ার ভাই,যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হবার বাসনায়, তারা কখনও মানুষ খুন করতে পারে না ।
আমার মেয়ে বললো,কি যে বলো না মা! করছেইতো আর যে এমন ঘটনা ঘটবে না, সেটা কি তুমি জানো?
মানুষ হতে এসে কি করে অমানুষ হয়,সেটা কি মানুষ গড়ার কারিগররা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন কখনও? স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার যেনো কেউ কেড়ে নিতে না পারে সেটা কি দেখবেন দেশের অভিভাবকবৃন্দ?দেশের অবকাঠামোর উন্নতির সাথে সাথে আমাদের মূল্যবোধের অবনতির কারণটা সমাজ বিজ্ঞানীরা দেখুন প্লিজ।
ধরে নিলাম হত্যাকারীদের বিচার হবে,কিন্তু আবরারের মায়ের বুকটা তো খালিই থেকে যাবে । একজন মা একজন বাবা কি করে সহ্য করবেন তার টগবগে তরুণ পুত্রের নির্মম মৃত্যু?
যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের বাবা মায়েরা কি কিছু বলেছেন? কেনো উনাদের ছেলেরা এতোটা নির্দয় এতোটা নির্মম হলো?কি করে তারা এতো বড় অন্যায় করার সাহস পেলো? আর অন্যায় করে নির্লিপ্ত থাকবার পিছনের শক্তিটা কি আসলে,বলবেন কেউ?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন এধরনের ঘটনা ঘটে,সেই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতরা এমন ভাবে কথা বলেন, শুনলে মনে হয় যে এই মাত্র উনারা আকাশ থেকে পড়লেন। উনাদের সবার দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য শাস্তি হওয়া উচিত ।এক একটা দুর্ঘটনা ঘটে, কিছুদিন সবাই হৈচৈ করেন। আবার ধীরে ধীরে সবাই চুপচাপ হয়ে যান।আবার যখন নতুন করে কিছু ঘটবে,সবাই মাঠে ময়দানে নেমে পড়বেন।কিন্তু আগের ঘটনার খবর কেউ রাখবেন না ।এই কারণে হত্যাকারীরা নির্ভয়ে থাকে।জানে এসব চিল্লাচিল্লি কিছুদিনের মধ্যেই ঠান্ডা হয়ে যাবে। তখন হয়তো তারা নতুন কোনো নীল নকশা তৈরীতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে, কে জানে!

ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষকদের লাল-নীল রাজনৈতিক শ্লোগান বন্ধ করা ছাড়া এসব সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।আর এই কথাটা বুঝবার মতো বুদ্ধি দেশের মানুষের আছে।
সবার সাথে আমারও প্রার্থনা আর কোনো মায়ের বুক যেনো খালি না হয় । আমাদের সন্তানরা দুধে ভাতে না থাকুক অন্তত নিরাপদে যেনো থাকে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com