শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

সিনেমা আমাকে খুবই টানে

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী। এখন পর্দায় তাকে খুব কম পাওয়া যায়। একটিমাত্র ধারাবাহিক নিয়ে ব্যস্ততা। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সানিম আহমেদ

ব্যস্ততা কী নিয়ে?

এখন একটিমাত্র ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। ‘ঘুমন্ত শহরে’ শিরোনামের নাটকটি প্রচার হচ্ছে এনটিভিতে। মাতিয়া বানু শুকুর রচনা ও নজরুল ইসলাম রাজুুর পরিচালনায় এ নাটকে আমাকে কিছুটা নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। আমার ভাই শহীদুজ্জামান সেলিম, ভাবি রোজী সেলিম আর ভাতিজি অর্ষা। আমেরিকা থেকে ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসি। কথায় কথায় ভাবির দোষ ধরি। এজন্য ভাতিজি আমাকে দেখতে পারে না। এ নাটকের চরিত্রটি একই সঙ্গে মজার ও সেনসেটিভ। কিছুটা কমেডি আঙ্গিকে অভিনয় করছি। দর্শক বেশ পছন্দ করছে নাটকটি। এ রকম ভালো গল্প পেলে আরও কিছু কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।

অভিনয়, মডেলিং, নাচ কোনটা বেশি ভালো লাগে?

নাচটা নিয়েই বেঁচে আছি। ছোটবেলা থেকে নাচটাই শিখেছি। নাচকে ভালোবেসেই এতদূর এসেছি। মডেলিংও ভালো লাগে। অল্প সময়ে একটা কাজ শেষ হয়ে যায়। দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়। বেসিক্যালি আমি মডেল নই, অভিনয় থেকে মডেলিংয়ে আসা। অভিনয়টা ভালোবাসি। আমার অভিনীত ‘বন্ধন’ নাটকের রুনী চরিত্রটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। আমার বিপরীতে ছিলেন ইন্তেখাব দিনার।

আপনি তো দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন…

হ্যাঁ, অল্প কিছু সিনেমা করেছি। আর তাতেই দুবার জাতীয় স্বীকৃতি। এটা আসলেই আমার বিরাট একটি অর্জন। মানুষ দীর্ঘদিন নিয়মিত সিনেমা করেও এই স্বীকৃতি পায় না। সেদিক দিয়ে আমি সৌভাগ্যবান। আমি তিনটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিÑ ‘দুখাই’, ‘লালসালু’, ‘জয়যাত্রা’। মোরশেদুল ইসলামের ‘দুখাই’ সিনেমায় আমি রাইসুল ইসলাম আসাদের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করি। সে সিনেমার পর আমি তাকে আজও বাবা বলেই ডাকি। কিন্তু পরের সিনেমা ‘লালসালু’তে তিনিই থাকেন আমার স্বামী। ভাবতেই পারছেন, অভিনয় করাটা কতটা আনকমফোর্টেবল ছিল। প্রথম দিকে তো অভিনয়ই করতে পারছিলাম না। পরে আসাদ বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে কাজটি আদায় করে নেন। এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই। এজন্য আমি আসাদ বাবার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ। এরপর তৌকীর আহমেদের ‘জয়যাত্রা’ সিনেমার জন্য দ্বিতীয়বার জাতীয় পুরস্কার পাই।

নতুন সিনেমায় আপনাকে পাওয়া যায় না কেন?

সত্যি বলতে সিনেমা আমাকে খুবই টানে। কারণ, আমার শুরুটা তো সিনেমা দিয়েই। এখান থেকেই এতবড় স্বীকৃতি মিলেছে। ভালোমানের ছবি বলতে যা বোঝায়, তাই করেছি। এরপর সিনেমার অবস্থা কেমন যেন ঘোলাটে হতে থাকে। আমি অনেক প্রস্তাব পেতাম সে সময়। কিন্তু রাজি হতাম না। মাঝেমধ্যে মনে হয়, যেসব ছবির অফার পেয়েছিলাম কিন্তু করা হয়নি সেগুলোও করলে ভালো হতো। এখন আবার আমাদের দেশে ভালো গল্পের সিনেমা হচ্ছে। এখন আবারও সিনেমা করতে চাই। গত বছর তো অতিথি চরিত্রে প্রস্তাব পেয়েও রাজি হয়ে যাই আকরাম খানের ‘খাঁচা’তে অভিনয় করতে। এ সিনেমায় আরও ছিলেন জয়া আহসান, মামুনুর রশীদ, আজাদ আবুল কালাম। তাদের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটাও তো দারুণ ব্যাপার।

নাচের প্রোগ্রাম কেমন চলছে?

কিছুদিন আগে বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে ইভান শাহরিয়ার সোহাগের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করলাম। সামনেও কিছু নাচের অনুষ্ঠানের কথা চলছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com