মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

নানীর কাছেই বড় হয়ে তাকেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরায় বকাঝকা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছোটকাল থেকে লালনপালন করা নানী ফুলমালা বেগম (৬০) কে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করেছে নাতি পলাশ (২০)।

বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কুড়েরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই পলাশকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে মাধবদী থানায় নিহত ফুলমালা বেগমের ছেলে শামীম আহমেদ বাদী হয়ে পলাশকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত ফুলমালা বেগম মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কুড়েরপাড়া গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, মাধবদীর কুড়েরপাড় গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর মেয়েকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ইসলামের নিকট বিয়ে দেয়। বিয়ের পর মেয়ের জামাইয়ের মৃত্যুতে ফুলমালা মেয়ের ছেলে পলাশকে লালন পালন করার জন্য নিজের নিকট নিয়ে আসেন। পরে তাকে স্কুলে ভর্তি করে লালন-পালন করে আসছিলেন।

এরই মধ্যে নাতি পলাশ এসএসসি পাস করে একটি কলেজে লেখাপড়া করছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাতি পলাশ বাড়িতে এসে বৃদ্ধা ফুলমালার নিকট খাবার (ভাত) চায়। ফুলমালা পলাশ রাতে দেরি করে বাড়িতে আসায় তাকে বকাঝকা করে।

এ নিয়ে নানীর সঙ্গে পলাশের ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নাতি পলাশ হাতের কাছে থাকা হাতুড়ি দিয়ে নানীকে মাথায় এলোপাথাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই নানীর মৃত্যু হয়। নানীর মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পলাশ লাশের পাশে বসে নরসিংদী পুলিশ সুপারের নম্বরে কল করে নানীকে হত্যা করার ঘটনা প্রকাশ করে।

পরে রাতেই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মাধবদী থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকারী নাতি পলাশকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহত ফুলমালা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com