শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

রাতের আঁধারে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন আরেক প্রবাসী

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পরকীয়ার জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন আরেক প্রবাসী। ২০ অক্টোবর রাতে ওই উপজেলার কেতকীবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রোকনুজ্জামান রোকন ওরফে নেন্দা ওই গ্রামের শমসের আলীর ছেলে। তিনি সাতবছর ধরে রোমানিয়ায় থাকেন। আরেক রোমানিয়া প্রবাসী সাইদুল ইসলাম ওরফে সেল্লু একই গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতীবান্ধা থানায় জিডি করেছেন সাইদুল ইসলাম। রোকনুজ্জামান রোকন সম্পর্কে সাইদুলের আত্মীয়।

জানা গেছে, রোমান প্রবাসী সাইদুল ইসলামের সঙ্গে ১২ বছর আগে একই উপজেলার সিন্দুর্না ইউপির তমোর চৌপুতী গ্রামের জলিমুদ্দিনের মেয়ে আকলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর কন্যা সন্তানের মা হন আকলিমা। আত্মীয়তার সুবাদেই সাইদুলের স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় রোকনের। যা পরবর্তীতে প্রেমে রূপ নেয়। এ কারণে আকলিমাকে পেতে পরিকল্পনা করেন রোকন।

আকলিমার স্বামী সাইদুল জানান, চার বছর আগে তাকে রোমানিয়ায় নিয়ে যান রোকন। এরপর ঘন ঘন দেশে আসতেন তিনি। কিন্তু আকলিমার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা টের পাননি সাইদুল। মাঝে সাইদুল অসুস্থতার কারণে দুই দফা দেশে আসেন। প্রথমবার সুস্থ হয়ে রোমানিয়ায় ফিরে গেলেও দুই মাস পর ফের দেশে আসেন তিনি।

সাইদুল আরো জানান, তিনি দেশে আসার কয়েকদিন পর রোকনও চলে আসেন। আত্মীয়তার সুবাদে তার বাড়িতে ঘন ঘন যাতায়াত ছিল রোকনের। ২০ অক্টোবর রাতে রোকনের পরামর্শেই সাইদুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান আকলিমা। ওই রাতেই রোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও আকলিমাকে না পেয়ে ২৫ অক্টোবর হাতীবান্ধা থানায় জিডি করেছেন সাইদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, স্ত্রী সন্তানের সুখের জন্যই আমি বিদেশে যাই। কিন্তু স্ত্রীই আমাকে ধোকা দিলো। একমাত্র মেয়ের কথাও ভাবল না। রোকনকে নিজের ভাইয়ের মতো দেখতাম। যাওয়ার সময় তারা এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, দেড় ভড়ি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।

সাইদুল আরো বলেন, রোকনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি তারা ঢাকায় আছে। যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করেও তাদের পাইনি।

আকলিমার বাবা জলিমুদ্দিন বলেন, এসব ঘটনার কিছুই জানতাম না। আমি খুবই লজ্জিত।

হাতীবান্ধা থানার এসআই মামুন বলেন, আকলিমাকে ফিরিয়ে দিতে রোকনের পরিবারকে চাপ দেয়া হচ্ছে। ওই পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com