বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস করে বিয়ে করায় নববধূকে পুলিশের মারধর

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: পুলিশকে না জানিয়ে মামলা আপস করায় এক নববধূকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাতে গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খুপি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই নববধূ বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওই গৃহবধূর দাবি, ধর্ষণচেষ্টার মামলা আপস করে পারিবারিকভাবে তাকে সেই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়া। রোববার রাতে তিনি ওই তরুণীর স্বামীর বাড়ি গিয়ে প্রথমে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং পরে বেদম মারধর করেন। ওই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন গৃহবধূ জানান, তিনি গাবতলী উপজেলার ফজিলা আজিজ মেমোরিয়াল কলেজে পড়েন। একই কলেজে পড়তেন বর্তমানে তার স্বামী সুইট (২২)। গত সেপ্টেম্বর মাসে সুইট কলেজ থেকে ফেরার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করায় ওই গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হলে পরের দিন পুলিশ সুইটকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে গ্রামের লোকজন বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেয় এবং উভয় পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্তে ওই মামলা আপস করে। সেই আপসনামা আদালতে দাখিল করা হলে ৩১ অক্টোবর জামিনে মুক্ত হন সুইট। এরপর গত ১ নভেম্বর পরিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এই বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন মিয়া।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ আরও জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি স্বামীর ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। এ সময় সাদা পোশাকে ওই বাড়িতে যান এসআই রিপনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা গিয়ে প্রথমে সুইটের খোঁজ করেন। এ সময় গৃহবধূ কারণ জানতে চাইলে এসআই রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাকে না জানিয়ে কেন মামলা আপস করা হলো সেটি জানতে চান তিনি। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এসআই রিপন। এর প্রতিবাদ করলে ওই গৃহবধূকে বেদম মারধর করা হয়। তার আর্তনাদে আশপাশের বাড়ির লোকজন বেরিয়ে এলে পুলিশ চলে যায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে গাবতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া জানান, তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন মামলার অপর আসামিকে ধরার জন্য। সেখানে কোনো নারীর গায়ে তিনি হাত দেননি। তবে মামলাটি যে তারা আপস করেছেন সেই বিষয়টি তিনি জানতেন না। সেখানে গিয়ে মামলা আপস হওয়ার বিষয়টি জানার পর তিনি ফিরে এসেছেন।

গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে ওই নববধূর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমাকেও তিনি বলেছেন তাকে মারধর করা হয়েছে। যদিও এসআই রিপন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com