1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

উদয়নকে ৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত করে তূর্ণা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে চালকের একটু ভুলে আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসকে আঘাত করে। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। লাশগুলো নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীবেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী চালক। পরিচয় গোপন করে তারা অ্যাম্বুলেন্সে করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা ঢাকায় যান।

তবে ঢাকায় ফিরে রাতেই তারা তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন। এদিকে, এ দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া নিহত ও আহতদের তালিকা সংগ্রহ করে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার কাজ শুরু করেছে রেল বিভাগ।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস  জানান, ১৬ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আখাউড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মন্দবাগ রেলস্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করেছেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার সময় তূর্ণা নিশীথা ছিল অটো ব্রেকে। মূলত বিরতিহীন ট্রেন হওয়ায় অটো ব্রেকে রেখেই চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তূর্ণাকে আউটারে থাকতে তিনটি সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল।

মন্দবাগ রেলস্টেশন থেকে দেয়া একটি সিগন্যালও চালক ও সহকারী চালক দেখতে পাননি। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও জানান,আউটার, হোম, স্টার্টারসহ বেশকিছু কারিগরি প্রক্রিয়ায়ও তূর্ণা নিশীথার চালক সাড়া দেননি। প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে উদয়ন এক্সপ্রেসকে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা।

মন্দবাগ রেলস্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন বলেন, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সতর্ক সংকেত) দেয়া ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাছের উদ্দিন (৫৫) ও সহকারী চালক চালক অপু দে (৩৫) পূর্বাঞ্চলীয় রেলের তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দি দেবেন। এ জন্য তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।

ঢাকা লোকোসেড ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন মোবাইল ফোনে  বলেন, তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী চালক মঙ্গলবার রাত ১০টায় তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হন। চট্টগ্রাম তদন্ত কমিটি দু’জনকে ডেকে পাঠিয়েছে। চট্টগ্রামের উদ্দেশ সকালেই তারা ঢাকা ছেড়েছেন।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের (ঢাকা) চালক শরিফুল ইসলাম এ খবর  নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন : বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। আহত যাত্রী, প্রত্যক্ষদর্শী, স্টেশন মাস্টারসহ রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে তারা কথা বলেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান মিতু মরিয়ম বুধবার  বলেন, আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। সব কটি দিক খতিয়ে দেখছি। বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন ও ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সিগন্যাল প্যানেল বোর্ড এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পরিদর্শন করেছি। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন।

রেলওয়ের সহায়তা দেয়া শুরু : বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে যান রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত হোসেন মহসিন। সেখানে চিকিৎসাধীন ও চিকিৎসা নেয়া আহতদের তালিকার সঙ্গে তার কাছে থাকা তালিকা মিলিয়ে দেখেন। পাশাপাশি আহতদের তিনি নগদ সহায়তা দেন।

তিনি বলেন, আমরা আহতদের আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছি। নিহতদের পরিবারকেও এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারের কাছে অর্থ পৌঁছে দিতে পারব। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরিচয় গোপন করে চিকিৎসা নেন চালক ও তার সহকারী: পরিচয় গোপন করে চালক তাছের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। মঙ্গলবার সেখানে দেখা যায়, একই বেডে তারা শুয়ে আছেন। ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত কি না প্রশ্ন করতেই অপু দে বলেন, প্লিজ আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আমাদের একা থাকতে দিন। নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোলার বাপদা গ্রামে তার বাড়ি।

তার বাবার নাম কৃপাচার্য দে। অপরজনের বাড়ি মানিকগঞ্জ বলে তিনি জানান। এ সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা বলেন, তারা ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। তবে কথা বলার সময় তাছের বারবার কপাল চাপড়াচ্ছিলেন। তাদের ভীষণ হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাদের বহনকারী আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত একাধিক ব্যক্তিকে তিনি আখাউড়ায় নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে চালক তাছের ও সহকারী চালক অপু দে ছিল তা বুঝতে পারেননি। তাদের নাম-ঠিকানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুঝতে পারেন।

সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে মন্দভাগ রেলস্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ৭৪ জন আহত হন।

এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও গার্ড আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি, সরকারি রেল পরিদর্শকের একটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের একটি কমিটি রয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com