1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

রাতে হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশুটি ফিরল মায়ের কোলে

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে চুরি হওয়া এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে চুরি হওয়া ওই শিশুকে বৃহস্পতিবার রাতে শাজাহানপুর উপজেলার লতিফপুর মধ্যপাড়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চুরির অভিযোগে রেশমা খাতুন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক নারী শাজাহানপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত সাত্তার মণ্ডলের মেয়ে।

রাতেই শিশুটিকে তার বাবা-মার হাতে তুলে দেয়া হয়। এর আগে শিশুর চাচা আবদুস সামাদ সদর থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন।

শিশুর স্বজনরা জানান, বগুড়ার কাহালু উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামের সৌরভ সাকিদারে স্ত্রী নাহিদা বেগম গত বুধবার বেলা দেড়টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে ছেলে সন্তান প্রসব করেন। নার্সরা শিশুকে তার মায়ের নানি শাশুড়ি ওবেদা বেগমের কোলে তুলে দেন।

এ সময় অপরিচিত এক নারী কাছে গিয়ে বলেন বাচ্চা অসুস্থ তাকে শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। ওই নারী ওবেদার কোল থেকে শিশুটি নেন এবং তার সঙ্গে যেতে বলেন। সিঁড়ি দিয়ে নিচতলায় নামার পর ভিড়ের মধ্যে শিশু চোর ওই নারী পালিয়ে যান।

সন্ধ্যার দিকে শিশু চুরির ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তৎপর হয়। শিশুর চাচা আবদুস সামাদ সদর থানায় মামলা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল জলিল মণ্ডল জানান, গোপনে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লতিফপুর মধ্যপাড়ার ফারুক হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও চুরির অভিযোগে রেশমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর রেশমা তিন সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা সদর থানায় শিশুটিকে তার বাবা সৌরভ সাকিদারের কোলে তুলে দেন। পরিবারের পছন্দে পুলিশ সুপার শিশুটির নাম রাখেন নাবিল সাকিদার।

তিনি প্রসূতি ও নবজাতকের পোশাক এবং ভালো খাবারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা উপহার দেন। এ সময় শিশুর মা নাহিদা বেগমকে হাসপাতাল থেকে আনা হয়। বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএমএম সালেহ্ ভুঁইয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া শিশু উদ্ধার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমানে শিশু ও মা হাসপাতালে রয়েছেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, রেশমা খাতুন নিজেকে বাঁচাতে দাবি করেন, শিশুর মায়ের নানি শাশুড়ি ওবেদা বেগমই তাকে শিশুটিকে দিয়েছেন। প্রথমে তিনি শিশুকে শাজাহানপুরের রামচন্দ্রপুরের বাড়িতে নিয়ে যান।

পুলিশ তৎপর হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লতিফপুর মধ্যপাড়ায় আত্মীয় ফারুক হোসেনের বাড়িতে যান। সেখান থেকেই রাত ১১টার দিকে চুরি যাওয়া নবজাতককে উদ্ধার ও চুরির সঙ্গে জড়িত রেশমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শিশু নাবিল সাকিদারকে চুরির কারণ জানতে প্রয়োজনে রেশমাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়া হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com