1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

ছোট ছিলাম একাত্তরে – ৪

সাব্বিরুল হক :: সুধীর দা আর গোপাল বাহাদুর দু’জন মজার মানুষ ছিলেন নানার বাসায়; প্রায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল দেখা হতো ওদের সঙ্গে।সুধীর দা ছিলেন নানার খুব কাছের একজন,গোপাল বাহাদুর নেপালী হলেও আমাদের মতো ছোটদের মাতিয়ে রাখতেন হাসি কৌতুকে।

সুধীর দা-র কাজ কাম ছিল বহুবিধ।হিসাব-নিকাশ থেকে শুরু করে বিশাল বাড়ির সবকিছুই থাকত নখদর্পনে।শখে চুল কাটার কাজটা করতেও আনন্দ পেতে দেখতাম।কিন্তু সুধীর দা হাসিমুখে যখন চুল ধরে টেনে নামিয়ে আনতেন দেখা যেত মাথাগুলো সব নিঃশেষে ন্যাড়া!

যুদ্ধের সময়টায় বাদ যায়নি গোপাল বাহাদুরের নেপালী ভাষায় গান আর নাচ।সুযোগ পেলেই নানার লম্বা নলওয়ালা হুঁকোয় কষে টান মেরে দিতেন।গুড়গুড় আওয়াজ শুনে মজাই লাগত।লুকিয়ে একদিন হুঁকোয় টান দিয়ে কেশে বমি করার কথা মনে আছে ভালই।

গোলযোগের মধ্যে এসে একদিন গোপাল দা-র সে কি কান্না!শুনলাম ওদের বাড়িতে নাকি হামলা হয়েছে।এলাকারই কিছু নামধারী মানুষ লুটপাট করেছে যুদ্ধের সুযোগে।তার এখন বাড়িতে ঢোকা নিষেধ।কখন যে কি করে ফেলে!

নানার অভয় শুনে পরে অবশ্য শান্ত হয়েছিলেন গোপাল দা।কিন্তু ভয়ে আতঙ্কে অস্থির হয়ে উঠতে দেখলাম সুধীর দা-কে।যদি আক্রমণ করে বসে ওর বাড়িতে।সেখানে মেয়েরা আছে, মহিলারাও আছে।তখন কি হবে!

সমাধান একটা হলো। আমরা বাড়িতে চলে গেলে ওদের দুই পরিবার নানার বাসায় থাকবে।যতদিন না পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।সানন্দে রাজি হয়েছিলেন ওরা।মামা-খালাদের দেখলাম স্বস্তি পেয়েছেন বেশ।নিশ্চিন্তেই যেতে পারবেন দেশের বাড়ি,ভেবেই হয়ত।

কিন্তু না, পরদিনই মেজ মামা একটা ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদটা দিলেন।নানাকে নিঃশব্দে কাঁদতে দেখলাম গোপাল দা-র মৃত্যু সংবাদে।আর জানলাম, দুর্বৃত্তরা বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে গেছে নেপালী বস্তিতে।

 

ছোট ছিলাম একাত্তরে-১

ছোট ছিলাম একাত্তরে – ২

ছোট ছিলাম একাত্তরে-৩

 


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com