1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম রাজাকারের তালিকায়!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভাষা সৈনিক, রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর নাম রাজাকারের তালিকায়!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রথম পর্বে ১০ হাজার ৭শ ৮৯ জন রাজাকারের তালিক প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সে তালিকা দেখে বিস্মিত রাজশাহীবাসী। কারণ রাজশাহীর ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটরের নাম এসেছে রাজাকারের তালিকায়। তালিকা দেখে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

গত ১৫ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারদের প্রথম পর্বের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় রাজশাহীর অংশের ১১ পৃষ্ঠায় যে তিনজনের নাম রয়েছে তাদের কেউই রাজাকার নন বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। এরা হলে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও অ্যাডভোকেট মহসিন।

পঙ্কজ দে নামের এক ব্যাক্তি তার ফেইসবুকে লেখেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে বঙ্গবন্ধু যতবার রাজশাহীতে এসেছিলেন প্রায় প্রতিবারই অ্যাডভোকেট সালাম সাহেবের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন। তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সালাম সাহেব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কামারূজ্জামানের পরিবারকে রাজশাহী থেকে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ২৫শে মার্চ ১৯৭১ অপারেশন সার্চলাইট নামে সারা দেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় সেই রাতে সালাম সাহেবের দুই পুত্র সেলিম ও ওয়াসিম, ছোটভাই হাসানুজ্জামান খোকা, ছোট ভগ্নিপতি সাইদুর রহমান মিনা এবং বোনের স্বামী তৎকালীন এম.এন.এ নজমুল হক সরকারকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানী বাহিনী।

এছাড়া গোলাম আরিফ টিপু একজন ভাষা সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ক্যাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর। তার সম্পর্কে পঙ্কজ দে ফেইসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন এই ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।

মুক্তিযুদ্ধের আরেক সংগঠক অ্যাডভোকেট মহসিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পানিপিয়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিচালক ছিলেন। যুদ্ধোত্তোর সময়ে তার স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পানিপিয়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করেন। বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা মহসিন পরে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পঙ্কজদে তার ফেসবুকে আরও লেখেন, ওই তিনজন ব্যক্তির নাম কিভাবে রাজাকারদের তালিকায় আসে দেশবাসী তা জানতে চায়। আশাকরি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এর জবাব দিবে। কি উদ্দেশ্য, কাদের প্ররোচনায় এই তালিকায় তিনজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো তা জাতির সামনে পরিস্কার করতে হবে। অবিলম্বে এই চক্রান্তের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি করেন তিনি।

আব্দুস সালামের জামাতা কবি আরিফুল হক কুমার বলেন, যে তিনজনের নাম এসেছে, তাদের একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন, ভাষা সৈনিক, যুদ্ধাপরাধ মামলার আইনজীবিও রয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে নিয়েই একাজ করা হয়েছে। যারা করেছে তারা সুদুর প্রসারী কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে করেছে। বলা হয়, প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু স্বাধীনতা বিরোধী তো আছেই। তাছাড়া কয়েকদিন আগেও টিপু রাজাকারের ফাঁসির রায় হলো তার নাম তো নেই।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com