শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০১:২৮ অপরাহ্ন

দেশে ৪ বছরেও বাড়েনি মাতৃদুগ্ধ পানের হার

দেশে গত ৪ বছরেও বাড়েনি মাতৃদুগ্ধ পানের হার। ১৯৯৪ সালে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ছিল ৪৬ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে উন্নীত হয় ৫৫ শতাংশে। এরপর ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ হার বাড়েনি। বরং ৫৫ শতাংশেই স্থির রয়েছে। এ তথ্য জাতিসংঘ্যের শিশু তহবিল ইউনিসেফের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বত্র মাতৃদুগ্ধ পানের হার হওয়া উচিত ৯০ শতাংশ। তাই পুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগের থেকে কিছুটা উন্নতি করলেও অন্য দেশের তুলনায় এখনও অনেকটা পিছিয়ে।

চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পানের সুযোগ কম পায়। ভুটান, নেপাল ও শ্রীলংকায় এ হার ৯৯ শতাংশ এবং আফগানিস্তানে ৯৮ শতাংশ। এসব দেশে শিশুদের জন্মের পর থেকেই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হয়।

বাংলাদেশ ছাড়া এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে এ হার ৯৪ থেকে ৯৭ শতাংশ। বাংলাদেশে নবজাতকদের মাত্র ৫১ শতাংশকে জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয়। ৬ মাসের কম বয়সী মাত্র ৫৫ শতাংশ শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার আরও বেশি হবে। তবে তার কাছে সর্বশেষ তথ্য না থাকায় তিনি বর্তমানে কত শতাংশ মাতৃদুগ্ধ পান কারানো হয় সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের শাল দুধ পান করালে শতকরা ৩১ ভাগ নবজাতকের মৃত্যুরোধ করা সম্ভব।

পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করালে ১৩ শতাংশ শিশুমৃত্যু এবং ৬ মাস বয়সের পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ‘বাড়ির তৈরি হাঁড়ির খাবার’ খাওয়ানোর অভ্যাস করলে শতকরা ৬ ভাগ শিশুমৃত্যু কমানো সম্ভব। এদিকে ইউনিসেফের প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফএফ) চেয়ারপারসন ডা. এসকে রায়। তিনি বলেন, দেশে নিরবচ্ছিন্ন মাতৃদুগ্ধ পানের হার ৫৫ শতাংশ। সেই বিষয়টি ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিবিএফ’র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ৬০ শতাংশের বেশি। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ওয়ার্কস্টেশনে চার হাজারের বেশি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার রয়েছে। যেখানে মায়েরা তাদের সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ান। তাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেয়া হলে বুকের দুধ খাওয়ানো বাড়তে পারে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস যাতে কমে না যায় তার জন্য সংস্থাটি বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে অনেক সহায়ক উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার জন্য জন্মের পর থেকে প্রতিটি শিশুকে ২ বছর এবং সম্ভব হলে আরও বেশি সময় বুকের দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্বাস্থ্যে ভালো থাকে। একজন মা যদি ১ বছর তার নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে তার স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়।

মাতৃদুগ্ধ পানের হার শতভাগে উন্নীত করতে হবে -জাহিদ মালেক : পৃথিবীতে মায়ের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধ সন্তানের অধিকার। মায়ের অপুষ্টি হলে শিশুরও অপুষ্টি হবে। অপুষ্টির কারণে দেশে অনেক শিশু, কৃষকায়, খর্বাকায় ও স্বল্প ওজনের হয়ে জন্ম নেয়। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। তাই মাতৃদুগ্ধ পানের হার শতভাগে উন্নীত করতে হবে।

মঙ্গলবার মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মূল বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এতে উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন, ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. এসকে রায় প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ৫৫ শতংশ। এ হারে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলংকা ও কিউবা। এ হার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার করা হয়েছে।

দেশের সব গার্মেন্টসগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার করার চেষ্টা চলছে। কারণ প্রায় ৪০ লাখ নারী এসব গার্মেন্ট কারাখানায় চাকরি করে। এ সময় জানানো হয়, ১-৭ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হবে। এ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘মায়ের দুধ পান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’। মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা। এছাড়া আজ সকালে র‌্যালি এবং দুপুর ১২টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পুষ্টি মেলা, এছাড়া পত্রিকাগুলো ক্রোড়পত্র, মোবাইল ফোনে বার্তা প্রেরণ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাতৃদুগ্ধপান শিশুদের পুষ্টিপূরণ এবং সম্মিলিত শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়। তিনি বলেন, ‘একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বৃদ্ধি এবং মাতৃ ও শিশুপুষ্টি উন্নয়নের কার্যক্রম টেকসই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ১ আগস্ট ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।-যুগান্তর


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com