1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫১ অপরাহ্ন

ভারোত্তোলনে মাবিয়ার স্বপ্ন ফিকে

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: অলিম্পিক গেমসের পরেই এশিয়াড। এই গেমসে দলগত ইভেন্টে পদক এলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের দেখা মেলেনি। ১৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেম্বাংয়ে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। আশা আর স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছেন ১৪টি ডিসিপ্লিনের প্রায় দেড়শ’ ক্রীড়াবিদ। আজ থাকছে ভারোত্তোলন।

মাল্টিজিম দূরে থাক, ভালো মানের ওয়েটলিফটিং জিমও নেই। গৌহাটি এসএ গেমসের পর বিরতিহীনভাবে অনুশীলনে থাকার কথা। কিন্তু তা হয়নি সোনাজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তের। পল্টন সুইমিংপুলের পাশে জিমে মাত্র এক মাসের অনুশীলনে তাকে যেতে হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। অতৃপ্তি নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাচ্ছেন মাবিয়া। তাই ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারলেন না। মাবিয়ার কথায়, ‘আমি চেষ্টা করব ভালো করতে। আমার আগের সেরাটা টপকে যেতে।’

গৌহাটি এসএ গেমসে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে ১৪৯ কেজি তুলে সোনা জিতে দেশকে সালাম ঠুকেছিলেন মাবিয়া। সেই দৃশ্য আজও ক্রীড়াপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। একটি স্বর্ণপদক বদলে দিয়েছে মাবিয়ার জীবন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছেন উত্তরায় ফ্ল্যাট। গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি তুলে নিজের ওজন শ্রেণীতে ষষ্ঠ হয়েছিলেন।

এরপর অনেক জল গড়িয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন। একের পর এক বদল হয়েছেন কর্মকর্তারা। টালমাটাল অবস্থা ভারোত্তোলকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন মাবিয়া।

বিদেশি কোচের অভাবে পারফরম্যান্স তলানিতে গিয়ে ঠেকছে তাদের। মাবিয়ার কথায়, ‘ফিরোজা পারভীন কিংবা বিদ্যুৎ কুমার রায় যুব গেমসের ভারোত্তোলকদের কোচ হতে পারেন। কিন্তু এশিয়াডে ভারোত্তোলকদের জন্য বিদেশি কোচ প্রয়োজন। ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আমাদের পারফরম্যান্স দিনকে দিন কমে যাচ্ছে।’

পদক জয়ী এই ভারোত্তলক আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে ঢাকায় এসেছিলেন র“শ কোচ অবিনাশ পান্ডে। একটি কোচেস কোর্স করিয়েছিলেন ১৫ দিন। অবিনাশ পরে ইন্দোনেশিয়ার কোচ হয়েছেন। অলিম্পিকে র“পা জিতেছে ইন্দোনেশিয়া। এমন কোচের প্রয়োজন আমাদের।’

মাবিয়া বলেন, ‘শ্রীলংকা ও নেপালের খেলোয়াড়রা আমাদের কাছে হারত। আজ তারা কমনওয়েলথ গেমসে পদক জিতছে। বিদেশি কোচ রাখার ফলেই এটা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে। যেখানে আমাদের কোনো বিদেশি কোচ নেই, দেশি কোচদের তত্বাবধানে ভবিষ্যতে পদক জেতা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না। ফলে এখন বিদেশ ট্যুর ছাড়া আর কিছুই সম্ভব নয়।’ মাবিয়ার কোচ এসএ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ফিরোজা পারভীন।

জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে অংশ নেবেন মাবিয়া। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমি একাই ভারোত্তোলক হিসেবে যাচ্ছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) একজনের কথাই বলেছে। তিন থেকে পাঁচজন গেলে মানসিকভাবে আমি চাঙা থাকতাম।’

তিনি বলেন, ‘পদক জিতি বা না জিতি, আমার একটি ইচ্ছে আছে। এমন একটি রেকর্ড গড়তে চাই, ভবিষ্যতে অন্যদের পক্ষে সেই রেকর্ড ভাঙা যেন সহজ না হয়।’ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল নজরুল ইসলামের কথায়, ‘মাবিয়া ভালোমানের ভারোত্তোলক। গোল্ডকোস্টে নিজের রেকর্ড ভেঙেছে সে। তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি আমরা। আশা করি, উন্নতি করার লক্ষ্য থাকবে তার। ভালো রেজাল্ট করার চেষ্টা করবে।’


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com