সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুল ভাঙাবে সরকার

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: গত ছয়মাস ধরে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি দিচ্ছে, যা সরকারের সমালোচনারই নামান্তর। সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে কথিত হামলার ঘটনা ওয়াশিংটন পর্যন্ত গড়িয়েছে। সরকারের প্রতি মার্কিন মনোভাব ক্রমশ: নেতিবাচক হিসেবে প্রকাশ হচ্ছে। এরকম প্রেক্ষাপটে, সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবারই মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে ডেকে নেন। দুজন প্রায় দুঘণ্টা বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আগামী সপ্তাহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ড. রিজভী এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এখানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মসূচি রয়েছে। এটা শেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যাবেন বলে জানা গেছে। এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গত কিছুদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে মার্কিন প্রশাসনে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে নানা অভিযোগ করে আসছে। যারা সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিষোদগার করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. কামাল হোসেন এবং সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি। সরকারের ধারণা, এদের বাইরেও বিএনপি-জামাত সরকার বিরোধী প্রচারণা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে। সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানদের কাছেও বিএনপি-জামাতের পক্ষ থেকে নিয়মিত পিটিশন দাখিল করা হচ্ছে।

সরকারের একাধিক নেতা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চমৎকার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু অনভিপ্রেত বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে। সরকারের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেছেন, ‘মার্কিন নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মদদ পাবে। কিন্তু একটি মহল সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

দেখা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কঠোর ভাষায় এই অভিযানের সমালোচনা করে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পর মার্কিন দূতাবাস থেকে এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করা হয়। সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মার্কিন মনোভাব ছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে কথিত হামলার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, নির্বাচনের আগে সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চায় না। আর সে কারণেই সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। – বাংলা ইনসাইডার


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com