মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

পুত্র এবং দলকেই দুষছেন বেগম জিয়া

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের ছয় মাস পূর্ণ হলো। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। সেদিনই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় বেগম জিয়াকে। আজ ৮ আগস্ট ছয় মাস পূর্ণ হলো তাঁর কারাজীবনের। সাত মাসে পড়ল বেগম জিয়ার কারাবাস।

বেগম জিয়া যেদিন প্রথম কারাগারে গিয়েছিলেন সেদিন তাঁর মুখে ছিল মিষ্টি হাসি। খুব বেশিদিন তাঁকে জেলে থাকতে হবে না সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন ভেবেছিলেন জেল থেকে বেরিয়ে আসা তাঁর জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। ছয় মাস আগে ৮ ফেব্রুয়ারি কোর্টে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেগম জিয়া বাসা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর স্বজনরা কাঁদছিলেন। তখন স্বজনদের প্রবোধ দিয়ে বেগম জিয়া বলেছিলেন, রাজনীতি করলে এরকম হয়। তিনি খুব শিগগিরই চলে আসবেন বলেও তখন বলেছিলেন খালেদা জিয়া। ওই সময়টাতে বেগম জিয়া ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি তাঁকে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য রকম মনে হচ্ছে। এখন বেগম জিয়া নিজেও জানেন না তাঁর কারাবাসের দৈর্ঘ্য আর কত বাড়বে। গত ঈদটা তাঁর কারাগারেই কেটেছে। এই ঈদটাও তাঁর কারাগারে যাবে এটাও মোটামুটি নিশ্চিত। এখনো তিনটি মামলায় খালেদার জামিন বাকি আছে। এমন পরিস্থিতিতে যতই দিন যাচ্ছে বেগম জিয়া তত বেশি বিষন্নতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

কারাবাসের প্রথম দিকে খালেদা জিয়া সংবাদপত্র পড়তেন, টেলিভিশন দেখতেন। কিন্তু এখন আর তাঁকে পত্রিকা বা টিভির প্রতি কোনো ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায় না। কারারক্ষী এবং তাঁর সঙ্গে কারাগারে যাওয়া গৃহপরিচারিকা ফাতেমার সঙ্গে গল্প করেই এখন খালেদা জিয়ার সময় কাঁটে। কারারক্ষী ও ফাতেমার সঙ্গে খালেদা জিয়ার করা গল্পগুলোর সূত্র ধরে একটি সত্যি বেরিয়ে এসেছে। খালেদা জিয়া তাঁর এই পরিণতির জন্য তাঁর বড় ছেলে তারেক জিয়া এবং বিএনপিকেই দায়ী করেন।

গত বছরের জুলাই মাসে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর অক্টোবরে ঢাকা এবং কুমিল্লার চার মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এই অবস্থায় দেশে আসতে চাননি বেগম জিয়া। কিন্তু বড় ছেলে তারেক জিয়া এবং দলের অন্য নেতাকর্মীদের পীড়াপীড়িতেই দেশে ফেরেন তিনি। এরপরই নানা ঘটনা প্রবাহের পর বেগম জিয়াকে কারাবন্দী হওয়ার ভাগ্য বরণ করতে হয়। এই কারণে সন্তান ও দলের প্রতি ক্ষুদ্ধ বেগম জিয়া।

এছাড়া কারাবন্দী হওয়ার সময় খালেদা জিয়া মনে করেছিলেন, তিনি কারাবন্দী হওয়ার পর বিএনপি একটি বড়সড় আন্দোলন করবে। কিন্তু বর্তমানে তিনি দেখছেন দল তাঁর মুক্তির জন্য সেরকম কোনো আন্দোলন তো দূরের কথা, এটি নিয়ে কথাবার্তা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তাঁর আত্মীয়-স্বজন, ভাইবোনই এখন তাকে কারাগারে দেখতে আসে, অন্যদের কোনো খোঁজও পাওয়া যায় না।

বেগম জিয়া নিজ আইনজীবীদের ওপরও বিরক্ত। একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে আইনজীবীরা তাঁর মুক্তির জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেই মনে করেন বেগম জিয়া। এটি কোনোভাবেই তিনি মানতে পারছেন না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া মনে করছেন, তাঁকে বাদ দিয়েই রাজনীতির একটি প্লট সাজানো হয়েছে। এই প্লটের কারণে তাঁর মুক্তি এখন অনিশ্চিত বলে মনে করছেন তিনি। এই অনিশ্চয়তায়ই কাটছে বেগম জিয়ার কারাজীবন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com