সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:০১ অপরাহ্ন

কবে `আদর্শ` ফাস্ট বোলার পাবে বাংলাদেশ?

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কয়েকদিন আগে টাইগার হেড কোচ বলেছিলেন, তিনি টেস্টের জন্য ফাস্ট বোলার খুঁজছেন। একজন আদর্শ ফাস্ট বোলারের বেশ অভাব টাইগারদের। কিন্তু একজন আদর্শ ফাস্ট বোলার বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন?

একজন আদর্শ ফাস্ট বোলারকে অবশ্যই দ্রুতগতির হতে হয় এবং যে উইকেট বরাবর বল করতে পারবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অন্যান্য দেশের বোলাররা যেটি নিয়মিত করে থাকে।

বাংলাদেশে উপমহাদেশের বাইরের কোনো দল সিরিজ খেলতে এলে, নিজদের শক্তির কথা মাথায় রেখে স্পিন উইকেট তৈরি করে টাইগাররা। আর সেই উইকেটকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যও পেয়েছে টাইগাররা। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়, যখন নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশে খেলতে যায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কথাই ধরুন।

টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে জেসন হোল্ডার, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচরা কী দাপটটাই না দেখিয়েছেন। টেস্টে বাংলাদেশ তো দাঁড়াতেই পারেনি।

কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে গতির সঙ্গে মুভমেন্ট আর নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রেখে ব্যাটসম্যানদের নাকাল করেছেন ক্যারিবীয় পেসাররা। যা বড় সংস্করণে নিজেদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বার্তা।

তাই বলে যে, আমাদের উপমহাদেশের দলগুলোতে ভালো ফাস্ট বোলার নেই তা কিন্তু নয়। উপমহাদেশের অন্য দুটি দল ভারত-শ্রীলঙ্কা স্পিন নির্ভরতার বাইরেও পেস আক্রমণ আরও জোরালো করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন পারছে না? কেন পারছে না টেস্টের দীর্ঘ মেয়াদে ভরসা জাগানোর মতো পেসার তুলে আনতে?

এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আরও কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়ে। যেমন- ঘরোয়া ক্রিকেটের কয়টি উইকেট তৈরি হয় ফাস্ট বোলিংয়ের উপযোগী করে? হয় ন্যাড়া নতুবা স্পিনসহায়ক উইকেট, এভাবে চলছে ঘরোয়া ক্রিকেট। আবার ভালো মানের ফাস্ট বোলার ফাস্ট বোলার তুলে আনতে ‘পেসার হান্ট’ নামে একটা কর্মসূচি আছে বিসিবির। কিন্ত সেটাও বছর দুয়েক ধরে থমকে আছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ২০০৫ সালে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি আয়োজন হয়েছে মাত্র তিনবার। ২০০৫, ২০০৭ ও ২০১৬ সালে! অথচ এই পেসার হান্ট থেকেই রুবেল, রবিউল, শফিউলদের মতো পেসাররা উঠে এসেছে। আবার এ কর্মসূচি থেকে পাওয়া সব পেসাররা যে টেস্ট আঙিনায় দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারছেন, সেটিও অবশ্য নয়। কেন নয় এমন প্রশ্নে আবারও ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটে ফরে যেতে হয়। তাই ফাস্ট বোলার নিয়ে সকল প্রশ্নই যেন একই বৃত্তে ঘুরছে। যার কারণে সমাধান হচ্ছে না। যার ফল টাইগাররা দেশের বাইরের সিরিজগুলোতে পাচ্ছে। আবার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একজন উঠতি ক্রিকেটার পেসের বদলে স্পিনের দিকেও বেশি করে ঝুঁকছে কি না, সেটিও ভেবে দেখতে হবে।

তাছাড়া এ দেশে কেউ বোলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে `স্পিন বোলিংকে বেছে নেয়। স্পিনই যেন তুলনামূলক নিরাপদ। শারীরিক গঠন, আবহাওয়াও এতে ভূমিকা রাখছে হয়তো। তাই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাফল্যের পরেও ‘দীর্ঘদেহী ও দ্রুতি গতি’র ফাস্ট বোলারের সংকট উদ্বেগের ছায়া ফেলছে দেশের ক্রিকেটে।

আর এই ছায়া থেকে দ্রুতই বের হতে চান টাইগার কোচ স্টিভ রোডস।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com