শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

আমেরিকা (!) আমেরিকা ?

হাসান তানকিউল

হাসান তানকিউল ::

বেবি শাওয়ার / ব্রাইডাল শাওয়ার :

আমেরিকা দেশটি হচ্ছে শাওয়ারের দেশ। এই শাওয়ার ওই শাওয়ার। এ নিয়ে আপনাদের দুটো মজার ঘটনা বলি।১৭/১৮ বছর আগের কথা। আমি তখন Staples নামের এক দোকানে সেলস-ম্যানের কাজ করি। আমার সাথে যারা কাজ করে এদের সবাই আমেরিকান। একসময় এদের অনেকের সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো । তাদের একজন ক্রিস্টাল আলভারেজ । স্প্যানিশ আমেরিকান মহিলা, সে তখন প্রেগন্যান্ট দেখতে অসম্ভব রূপবতী । তার সাথে নানান বিষয় নিয়ে কথা হয় , সে আমাকে একদিন বলল হাসান তোমাকে আমার বেবি শাওয়ারে আমন্ত্রণ করতে চাচ্ছি তুমি আসলে খুশি হবো , সাথে তোমার স্ত্রীকেও আনবে । তার নিমন্ত্রণ পেয়ে ভালো লাগলো বিদেশির বাড়িতে কখনো দাওয়াত পাইনি ঠিক তখনি আমার মনে খটকা লাগলো।

তাকে প্রশ্ন করলাম , বেবি শাওয়ার মানে ? বাচ্চা তো এখনও তোমার পেটে ! শাওয়ার দেবে কিভাবে ?
সবাই আমার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে মুখে হাসি । আমি তাঁদের হাসির কারণ ধরতে পারছি না । একজন তো বলেই ফেলল This Fresh of the boat Immigrant is funny ( আমি তখন আমেরিকায় নতুন )। ক্রিস্টাল আমার পিঠ চাপড়ে বলল ইউ র ফানি ডুড ! আমার কথায় কি এমন ফানি ছিল তা ধরতে পারলাম না। বেবি শাওয়ারের নাম এর আগে শুনিনি। মূলত বেবি শাওয়ার একটি চমৎকার অনুষ্ঠান। যে মেয়ের বাচ্চা হবে তার বন্ধু বান্ধব নানান গিফট নিয়ে আসে যে বাচ্চার জন্ম হয়নি তাঁর জন্যেও নানান গিফট আসে। ক্রিস্টাল আলভারেজের বাড়িতে আমিও গিফট নিয়ে হাজির হয়েছিলাম। নিউ ইয়র্ক শহরে আমাদের পরিবারটা বিশাল। সদস্য সংখ্যা দুশোর কাছাকাছি। আমার খালাতো , চাচাতো বোনের সংখ্যা প্রায় তিরিশ জন। এদের জন্ম এখানে অতএব তারা আমেরিকান মানুষ। অদ্ভুত বাংলায় কথা বলে। সেদিন একজনের ব্রাইডাল শাওয়ার অনুষ্ঠান হল। সে অনুষ্ঠান আমাদের ৮৭ বছর বয়সী নানীও এসেছেন। আমার নানীকে আমার সব কাজিনরা Big Mama বলে ডাকে। আমাদের Big Mama হাসিখুশি মানুষ। সব নাতনিদের নিয়ে কিছুক্ষণ পর পর ছবি তুলছেন তারপর আবার সবকিছু ভুলেও যাচ্ছেন । তার ডিমেনশিয়া আছে । বেশিক্ষণ কিছু মনে রাখতে পারেন না, তিনি মেয়েদের জটলায় ঢুকে প্রশ্ন করলেন “ব্রাইডাল শাওয়ার” ব্যাপারটা কি রে ? “তোরা কি ওকে ( যার ব্রাইডাল শাওয়ার ) বাগানের পাইপ দিয়ে গোসল দিবি ? ” হাসির রোল পড়ে সবার মধ্যে কি বলে Big Mama আমরা শাওয়ার বলতে বুঝি গোসল , স্নান ইত্যাদিকে নাম যদিও ব্রাইডাল শাওয়ারে গোসল টোসলের কিছুই নেই। সবাই সুন্দর কাপড়চোপড় পরে কেক কাটা হয় , ব্রাইড কে অনেক গিফট টিফট দেয়া হয়।

জাপানি কাস্টমার :

আমার খালু-সাহেব রুজভেল্ট হোটেলে ওয়েটার হিসেবে কাজ করেন। একদিন এক জাপানি ভদ্রলোক এলেন ডিনার করতে । বেচারার ইংরেজি জ্ঞান খুবই সীমিত একেবারে শূন্যের কাছাকাছি। খালুর যথারীতি তার কাস্টমারের সামনে মেন্যু নিয়ে হাজির হলেন। সে গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছুক্ষণ মেন্যুর দিকে তাকাল তারপর মেন্যুটা টেবিলের উপর রাখল । খালু ভদ্রলোককে প্রশ্ন করলেন Sir , What would you like to order ? জাপানি কিছু বলল না। খালু তাকে আবারো মেন্যু দেখালেন এবার সে গরুর মতন শব্দ করলো । দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে বলল “হাম্বা” । খালু বেচারা পুরো মেন্যু খুঁজে “হাম্বা” নামের কিছু পান না ওদিকে জাপানি বেটাও বোঝাতে পারছে না সে কি খেতে চাচ্ছে । উপায় না দেখে সে খালু-সাহেব বললেন you want cow ? beef ? steak ? এবার জাপানি লোকটা হাসি হাসি মুখে বলল はい はい Hai Hai yes yes . সে স্টেক খেতে চায় !!

ফানি আমেরিকান :

আমেরিকানদের জীবনে ফান জিনিসটা খুবই জরুরি। সবকিছুতে এরা ফান খুঁজে। এবার আমার দেখা এদের কিছু ফানের নমুনা দেই। রাস্তায় রেড লাইটে দাড়িয়ে আছি হঠাৎ দেখি এক ছেলে উদোম নেংটা হয়ে দৌড়চ্ছে হাতে প্রিয় টিমের ফ্ল্যাগ। তাকে তাড়া করছে তিন পুলিশ। নেংটা মিয়ার থামার কোন লক্ষণ নেই । তার মুখ হাসি হাসি সে খুব মজা পাচ্ছে, মজা পাচ্ছে পাবলিক , খুব ফান হচ্ছে।

ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন জোক :

ঝলমলে রৌদ্রজ্জ্বল দিন তাপমাত্রা ১০০ ছুঁই ছুঁই। গরমের যন্ত্রণায় জীবন অতিষ্ঠ। হাইওয়েতে গাড়ি চলছে, হঠাৎ দেখলেন বড় একটা ফ্লাশিং সাইন

“সাবধানে চালান আগামী এক মাইল রাস্তায় আইস জমে আছে ”

আমেরিকান ভিক্ষুক :

এ দেশের ফকিররা মজার মজার কথা লিখা সাইন বোর্ড নিয়ে রাস্তার কোনায় বসে থাকে। যেমন “কেন মিথ্যে বলবো ” পেটে খাবার নেই এর জন্য সে আপনার কাছে ডলার চাচ্ছে না অতএব তার সাইন বোর্ডে লিখা ” why lie I need a beer ” আরেকজন তার সাইন বোর্ডে লিখা “আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে নিনজাদের হাতে আমার টাকার দরকার কেরাটি শেখার জন্য “! আমার আগের এপার্টমেন্ট ছিল সুপার মার্কেটের পাশে সেখানেই তার সাথে পরিচর। নাম জন মোহাম্মেদ ,মাথায় টুপি ,লাল রঙের সুট,লাল শার্ট,লাল টাই,লাল জুতা,মোজা সবকিছুই লাল।কালো আমেরিকানদের রুচি নিয়ে আমার মনে রয়েছে নানান প্রশ্ন ! জন মোহাম্মেদের কাপড়চোপড়ের যে বর্ণনা দিলাম তা পড়ে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন।জন মোহাম্মেদ সুপার মার্কেটের সামনে বসে সব সুন্দর মেয়েদের বিয়ের প্রস্তাব দেয় এভাবে “Hey baby wanna marry me ? I got food stamp” (ফুড স্ট্যাম্প অতি দরিদ্র মানুষরা সিটি থেকে পায় যা দিয়ে সরকারী টাকায় খাবার কেনা যায়) এটাই তার সম্বল। তার আশা যদি কোন সুন্দর মেয়ে তার টোপ গিলে হা হা হা।

নাম বিকৃতি বা সংক্ষেপণ :

বাংলাদেশীরা আমেরিকায় এসে নিজেদের নাম কিছুটা বদলে ফেলেন। মা বাবা হয়ত তাদের অতি আদরের সন্তান ,নয়নের মণি ,যক্ষের ধনের নাম রেখেছেন কাশেম মিয়া আমেরিকায় এসে সে হয়ে গেলো “ক্যাশ ” , মিয়া রুহুল আমিন হয়ে গেল “রাহুল ” যাদের নামের সাথে মোহাম্মেদ সংযুক্ত আছে তারা হয়ে যায় “মোঃ Mo ” যাদের নামের পেছনে Islam আছে তারা ইসলাম বলতে কিছুটা নারাজ। আমার এক বন্ধু আছে সংগত কারণে তার নাম লিখছি না ধরুন তার নাম অমুক ইসলাম ,ভালো চাকরি করে তার অফিসে ফোন করলে ফোন যদি ভয়েস মেইলে যায় তখন শুনবেন Hey this is Omuk IZLAM I am not available right now leave a message tut….IZLAM বলার দরকার কি মা বাবা নাম রেখেছেন ISLAM ঐটাই বল। বিকৃত করে লাভ টা কি ?

নিতম্ব (পাছা) প্রেমী আমেরিকান :

এদের পাছা প্রেমের কথা না বললেই নয় ,এখানে মেয়েদের সৌন্দর্য পাছা নির্ভর। এরা চেহারার দিকে তাকায় না কোনও মেয়েকে দেখলে প্রথমে এরা নিতম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে । ১৮ বছরের তরুণ থেকে ৮০ বছর বয়সী বুড়ো সবারই এক অবস্থা । আমেরিকায় এসেছি তখন মাত্র কিছুদিন হয়েছে । মাঝে মধ্যে এদিক ওদিক একা একা বের হই। বেশি দূরে যাই না রাস্তা হারিয়ে ফেলব এই ভয়ে। একদিন বিকেল বেলা মামার সাথে বের হয়েছি , রাস্তায় অনেক লোকের আনাগোনা , সামার প্রায় শেষ হতে চলেছে । স্বল্পবাসনা তরুণীদের যেন মেলা চারদিকে । আমি মামাকে প্রশ্ন করলাম “আচ্ছা লোকজন এখানে মেয়েদের পাছার দিকে এভাবে নির্লজ্জ (কুৎসিত) ভাবে তাকায় কেন ? চেহারার দিকে তাকালেই তো হয় ? তার উত্তর “এদের সৌন্দর্যের মানদণ্ড আমাদের থেকে অনেকটা ভিন্ন ” আমি আর কিছু বললাম না যা বোঝার বুঝে গেছি।

কুঁজো বুড়ি :

আমি তখন আমার শ্বশুর বাড়িতে থাকি “ঘরজামাই বলা যায়” তাদের সাথে ছিলাম প্রায় এক বছর ,তাদের বাসায় থাকাকালীন অবস্থায় কুঁজো বুড়ির সাথে পরিচয় বয়েসের ভারে তার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেছে (আমার ধারনা ) তার সাথে আমার দেখা হয় রাস্তায় , আমি প্রতিদিন ১০ টার দিকে বাসার সামনে দাড়িয়ে সিগারেট টানি সে দিনের ওই সময়টাতে বাজার করতে যায়।আমাকে দেখে মিষ্টি হাসি দেয় তারপর বলে Never get old ! একদিন বুড়ির সাথে আলাপ হল নিম্নে আমার সাথে তার কথোপকথন :
কেমন আছ ?
-ভাল । ‘থাঙ্ক্যু ফর আস্কিং’
আজকের দিনটা চমৎকার ? কি বল ? (আমেরিকায় কথাবার্তার সূচনা হয় দিনের আবহাওয়া নিয়ে)
-আসলেই চমৎকার একটি দিন !
তার হাতে দুনিয়ার বাজারের ব্যাগ। বললাম , কি এতো বাজার করলে?
-পাখিদের খাবার ,কুকুর বেড়ালের খাবার,রাস্তার কবুতরের খাবার !
-তুমি কি অনেক পশুপাখি পোষ নাকি ?
হ্যাঁ ,লেরি(কুকুর) আর হ্যারি (বিড়াল) আমার পরিবারের সদস্য জানো ? তাদেরও আমার মত অবস্থা !
কি অবস্থা ?
-দুজনেই আমার মত বৃদ্ধ, লেরি (কুকুর) আবার চোখে কম দেখে ।আগামী সপ্তাহে তার চোখ অপারেশন !
-তাই নাকি ( আমি আকাশ থেকে পড়লাম “কুকুরের যে চোখ অপারেশন হয় তা আমার জানা ছিল না “)
আর তোমার বেড়ালের কি অবস্থা ?
-ওকে আমি এখন কঠিন ডায়েটের মধ্যে রেখেছি ওর ওয়েট হঠাৎ করে খুব বেড়ে গেছে ।
-ভাল ভাল !
আর পাখিকথা বললে না ? তাদের কি অবস্থা ?
-আসলে আমি পাখি পুষি না ,যেসব পাখি আমার বাসায় আসে এরা আমার অতিথি।

আমি বললাম , তুমি চমৎকার একজন মানুষ ,তোমার সাথে পরিচয় হয়ে ভাল লাগলো । এ দেশের বৃদ্ধ মানুষগুলো অসহায় না কিন্তু এরা খুব একাকী। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এরা স্বাবলম্বী। রিটায়ারমেন্টের পর এরা Social security থেকে ভালো পয়সা পায় কারো কাছে এদের হাত পাততে হয় না। বাচ্চাকাচ্চাদের সাথেও খুব একটা যোগাযোগ থাকে না। কিছুদিন পর সুসেনের (বুড়ির নাম)সাথে আলাপ করে তা জানলাম তার দুই মেয়ে। দুজনেই অন্য স্টেটে থাকে। কালেভদ্রে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে। মাদার্স ডে , থ্যাংকস গিভিং ডেতে এরা মাকে কার্ড পাঠায়। সুন্দর করে লিখে মম I LOVE YOU ! মা আর মেয়েদের সম্পর্ক ওই একটি কার্ডেই সীমাবদ্ধ।

হিউমেন রাইটস :

এ দেশের অনেক কিছুই ভালো আবার কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা দেখলে গা জ্বলে ওঠে । এদের সমাজের দু’একটা জিনিস আমাকে অসম্ভব পীড়া দেয় যার প্রথমটা হল সমকামিতা। বাচ্চা কে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন হঠাৎ দেখলেন দুইজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ যাদের বয়স প্রায় ৫০ এর কাছাকাছি একে ওপরকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে ! আপনি অপ্রস্তুত ! কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না ওদিকে আপনার বাচ্চা আপনার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে ! বাচ্চার বয়েস যদি ১০/১২ বছর হয় সে কিছু বলবে না , এ বয়েসে এরা অনেক কিছু জানে ও বোঝে কিন্তু যদি বাচ্চাটি ৬/৭ বছর বয়েসের হয় তাহলে বিরাট সমস্যা Dad what are they doing ? আপনি কি উত্তর দেবেন ? এই দেশটি হল রাইট (হিউমান রাইটসের) এর দেশ , এই রাইট , ওই রাইট আমার যা ইচ্ছা আমি করব কারো এখানে বলার কিছু নেই । এদের সমাজটাই এ রকম ! আমেরিকার অনেকগুলো স্টেট এ সমকামীদের বিয়ে এখন বৈধ । দ্বিতীয়টি হচ্ছে “আমাদেরকে অবাধে রাস্তায় গাঁজা টানার অধিকার দিতে হবে ” ! এখানে বলে রাখি আমেরিকানদের মতন গাঁজাখোর জাতি পৃথিবীতে দুটো আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। এখানে ৫০/৬০% অ্যাডাল্ট রেগুলার গাঁজা টানে। অনেক স্টেট এ গাঁজা টানা পুরোপুরি লিগাল। ডাক্তার ও রুগীকে গঞ্জিকা সেবনের প্রেসক্রিপশন দেন । এটাকে বলে মেডিকেল মারিজুয়ানা। মেডিকেল মারিজুয়ানা ফলাতে স্পেশাল লাইসেন্স থাকতে হয়। বিক্রির লাভের উপর ‘কর’ অনেক ! এরা পুঁজিবাদী সমাজ , সবকিছুতেই এরা কর বসাবে সারা দেশটায় চলে করের উপর।

সাধারণ মার্কিন মানুষ :

এ দেশে আছি ১৮ বছর প্রায় হতে চলল। বিগত আঠারো বছরে অনেক ধরনের মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে Plumber (সোজা বাংলায় মেথর ) থেকে শুরু করে সিনেটর ,কংগ্রেস ম্যান , লেখক, সিনেমার নায়ক নায়িকা ,Ceo ,Cfo , Ambassador কেউ বাদ নেই কারোও সাথে হয়েছে বন্ধুত্ব। এরা সবাই মার্কিন নাগরিক জন্মসূত্রে আমেরিকান। আমেরিকানরা অতি উচ্ছ্বাসি এক জাতি। এদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ দেখার মত। ধরুন আপনার সাথে অনেকদিন পর দেখা হল আপনাকে দেখামাত্রই এরা চোখ বড় করে মুখের বিশাল হাসি টেনে আপনার কাছে আসবে How are you ? oh god (চোখ দেখলে এখন মনে হবে এই বুঝি কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে ) It’s so good to see you! How are you ? আপনি যদি এ দেশে নতুন হোন আপনি ভাববেন কি চমৎকার ব্যবহার এদের ? সমস্যা হল এদের এ উচ্ছ্বাস মেকি, উচ্ছ্বাস প্রকাশে এরা পৃথিবীতে এক নাম্বার। আমার শালা ,শালী ,খালাতো ভাই ,বোন এদের প্রায় সবার জন্ম এখানে এরাও আমার সাথে দেখা হলে তাদের উচ্ছ্বাসকেও আরও ৮/১০ জন আমেরিকানের মতোই প্রকাশ করে OH Vaiya ” I haven’t seen you for so long ” How are you doing Man ? আমিও উচ্ছসিত হয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দিই ! এখন যে মানুষটা আপনাকে দেখে এতোই আনন্দিত তার সাথে যদি কোন আগের সমস্যা থেকে থাকে তখনই এদের আসল রূপ দেখবেন। আপনি সরামাত্র বলবে I hate that asshole .

আমেরিকান গালি :

Fuck you এ শব্দটা এরা কথায় কথায় বলে বাবা মেয়ের কথা শুনলেন না মেয়ে ফট করে বলে বসবে
Fuck you man মা হলে বলবে Fuck you Bitch(কুত্তী) এরা I love you বলতে যতোটা পারদর্শী Fuck you বলতেও সমান পারদর্শী।

Asshole : পাছার ছিদ্র এ গালিটা আমেরিকানদের অতি প্রিয় বলা যেতে পারে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গালি। কিছুদিন আগে দুই বাঙালি আমার সামনে ঝগড়া শুরু করলেন একজন আরেকজন কে গালি দিচ্ছেন গলির সাথে বাংলাও মিশে গেছে যেমন শালার পুত Asshole এর বাচ্চা হা হা হা। …

দয়ালু আমেরিকান :

এরা অনেক দয়ালু।সাত আট বছর আগে বাংলাদেশি এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে তার যাত্রী শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান স্টাব করলো। শ্বেতাঙ্গ যাত্রীটিকেও পুলিশ সাথে সাথে গ্রেফতার করে ফেললো। টিভির নিউজে তা দেখালো , পত্রিকার পাতায় এ খবর ফলাও করে ছাপা হলো। কিছুদিন পর পুরো আমেরিকা থেকে ভদ্রলোকের কাছে চিঠি আসতে শুরু করল। প্রায় সব চিঠির বক্তব্য বা সারমর্ম এক “আমরা আমাদের Fellow American এর ব্যবহারে অতি লজ্জিত,ক্ষমা চাওয়ার ভাষা আমাদের নেই এ ছোট্ট ডোনেশনটি আপনি গ্রহণ করলে খুশি হব। ট্যাক্সি ড্রাইভার সাহেব ডোনেশন পেয়েছেন প্রায় ১লক্ষ ডলার।

কর্মঠ আমেরিকান :

জাতি হিসেবে এরা অতি কর্মঠ এরা কাজে বিশ্বাসী আপনার সাথে দেখা হলে প্রথম যে কথাটি এরা বলবে এটি হল How’s work going ,you working ? Are you off ? How’s job ইত্যাদি। পরে হয়তো অন্যান্য কুশাদি জিজ্ঞেস করবে। ফ্যামিলি কেমন আছে ইত্যাদি।

বিচিত্র নামের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান :

জাতি হিসেবে আমেরিকানরা যেমন বিচিত্র এদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামগুলোও অতি বিচিত্র ! সেদিন ম্যানহাটনে এক রেস্টুরেন্টের নাম দেখে চমকে উঠলাম। নামটি” Hair of a dog” সোজা বাংলায় “কুকুরের চুল “। কুকুরের চুলের সাথে রেস্টুরেন্টের কি সম্পর্ক কে জানে ? মেয়েদের বুটিক কাপড়ের দোকানের নাম Blue Balls ( নীল অণ্ডকোষ ) বলস বলতে আমেরিকানরা সাধারণত অণ্ডকোষকেই বোঝায় । সাহসী লোকজনকে দেখলেই বলে He got big balls ! “Blue Balls” নামের দোকানে পুরুষরা ভুল করেও যেন না ঢুকেন। ঢুকলে তাদের বাদামি রঙের অণ্ডকোষ লাথির আঘাতে নীল বর্ণ ধারণ করবে। অতএব সাধু সাবধান ! মেয়েদের আরেক কাপড়ের দোকানের নাম Raper (ধর্ষক) এই নাম দেখে এ দোকানে কোন মহিলা ঢুকবে বলে মনে হয় না। ছেলেদের কাপড়ের দোকানের নাম “স্কচ এন্ড সোডা ” এটা কোন মদের বারের নাম হলে চমৎকার মানাত , কিন্তু কাপড়ের দোকানেই এই নাম ? ম্যানহাটনে আরেক বারের নাম ” পেনি ফার্থিং ” ? পেনি (আমেরিকায় এক পয়সার মুদ্রা ) পাঁদবে কেন ? আরও অদ্ভুত সব নাম আছে , যেমন Butt drilling (পাছা /প্রশ্চাৎদেশ ড্রিলিং ) সন্দেহজনক ব্যবসা। কেউ কারো পাছা ড্রিল মেশিন দিয়ে ড্রিল করে ফেলছে ! কি ভয়ানক ব্যাপার ! কন্সট্রাকশন কোম্পানির নাম STD (সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ ) যেমন গনোরিয়া , সিফিলিস ইত্যাদি। খাবারের ট্রাকের নাম egg slut (আণ্ডা খানকি ) এরা আবার আণ্ডা ছাড়া কিছু বিক্রি করে না। এয়ার কন্ডিশন মেরামতের দোকানের নাম Stiff Nipples ( শক্ত স্তনের বোঁটা ) এ ব্যাপারে আমি আর কিছু লিখছি না মহিলারাই এ সম্বন্ধে জানার কথা ! পিজার দোকানের নাম Herpes Pizaa . এই নাম দেখে কেউ সেখানে পিঁজা খাবে বলে মনে হয় না। যদি খাবার পর হারপিস হয় ? কি ভয়ানক !

 

একজন হোসেন আলী


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com