শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

জ ন শূ ন্য

সাব্বিরুল হক :: সাগর নীল গ্রহে নামতে বছর খানেক সময় লেগেছে, বহু দূরে নীল গ্রহের ভেসে থাকা অবস্থান,আলোকবর্ষ পথ দিতে হয়েছে পাড়ি,খরচ করতে হয়েছে হিসেব ছাড়া টাকাপয়সা;খুঁজে পাওয়া গেছে তারপর,বহু যুগের সাধনার ফল,অন্যগ্রহে প্রাণের সন্ধান।

প্রথম অভিযাত্রী দলে শুরু থেকে আছে সে,
অর্ণব সরকার;বাংলাদেশের ছেলে।পড়তে গিয়েছিল আমেরিকায়,মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ে।প্রচুর পরিমাণে লেখালেখি করেছে বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক পত্র- পত্রিকায়।এরপরই নাসার নজরে পড়ে যায় এবং দেখতে দেখতে সুযোগও পেয়ে যায় মহাকাশে পাড়ি জমানোর।

প্রথম দিকে কেমন যেন ভৌতিক মনে হয়েছে,পরে স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে মহাশূন্যে থেকে-থেকে;এখন মনে হয় সৌরজগতই ওর নিজের এলাকা, জন্মই হয়েছে সেখানে!গ্রহের পর গ্রহ যখন পেরিয়ে যায় তখন অর্ণব ফিরে আসে নিজের ভেতরে,অজানা এক আবেদন নিয়ে!

প্রথমবার মানুষ আকারের প্রাণী ধরা পড়ে মাস তিনেক আগে,সৌর যানের অনুসন্ধানী ক্যামেরায়;এমন ক্যামেরা,যেটি দিয়ে লক্ষ মাইল দূরের দৃশ্য দেখা হয়ে যায় এক নিমিষে।অন্যগ্রহে,যে গ্রহের রং সাগর নীল, মানুষ খোঁজে পাওয়ার বাকী গল্প শুনুন অর্ণবের মুখে।

বারবার যোগাযোগের সংকেত পাঠানোর পরও কোন সাড়া দিল না নীলগ্রহবাসীরা।কেন যেন মনে হল ইচ্ছে করেই তাকাচ্ছেনা ওরা ফিরে।আমি আরো হতবাক হলাম ওদের চলাফেরা দেখে,এরপর কাজকর্ম দেখে।

আমি এক পর্যায়ে ছোট ল্যান্ডিং যান নিয়ে ওদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।নেমে যাইও।কিন্তু দ্বিতীয়বার ভয়ানক অবাক হতে হয় আমাকে;দেখতে পাই,নীল গ্রহের বেশ কিছু মানুষকে।দল বেঁধে আর এক সারিতে সারি বেঁধে চলছে,দেখে লাগছে প্রতিদিনের কাজে রওয়ানা দিয়েছে যেন বা।

পেছন থেকে ডাক দিলাম।হাত পা নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলাম,বোঝাতে চাইলাম অনেক দূরের বাসিন্দা আমি।এসেছি দেখা করতে,বন্ধুত্ব পাতাতে।কোন লাভ হল না তাতে।ফিরেই তাকাল না কেউ।

নীল গ্রহবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের তৃতীয়বার চেষ্টা প্রায় সফল হয়ে এসেছিল।বাঁধা হয়ে দাঁড়াল আবহাওয়া,ঝড় তুফান আর বাতাস শুরু হয়ে গেল প্রবল গতিতে।ফিরে আসতে বাধ্য হলাম ল্যান্ডিং যান নিয়ে মূল সৌর যানে।

সেরাতে সৌর জগত কেঁদেই গেলো সারারাত বৃষ্টি ঝরিয়ে।ঘুমোতে পারলামনা একবিন্দু, নীলগ্রহবাসীর চিন্তায়।কেউ যোগাযোগ করছে না,সাড়া দিচ্ছে না, এমনকি ডাক শোনে তাকাচ্ছে না ফিরেও একবার। অবাক থেকে হতবাক হয়ে যাই।তাহলে কি ব্যর্থ হয়ে গেল এতদিনের আয়োজন!বিফলে গেল অন্যগ্রহে প্রাণের অনুসন্ধান!

আমার জন্য আরো কতবড় বিস্ময় অপেক্ষা করে রয়েছে কে যে জানত!গভীর রাতে মনিটরে ভেসে উঠে নীলগ্রহবাসীর চেহারা।হ্যাঁ পুরোপুরি মানুষ।একদল মানুষ অঙ্গভঙ্গি করছে আর কি যেন বলছে হাত নেড়ে। আমি রেকর্ডিং করার প্রতিটা যন্ত্র খোলে দেই।রেকর্ড হয়ে যায় ওদের সবকিছু।কিছুক্ষণের ভেতরে ওরা হারিয়ে যেতে থাকে মনিটরের পর্দা থেকে।আমি ওদের পাঠান সংকেত উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ি।আর সংকেতের অর্থ উদ্ধার করে আমি হয়ে পড়ি নির্বাক।ওরা লিখেছে , ‘হে পৃথিবী গ্রহের বাসিন্দা,কেন এই গ্রহটায় এসেছো আমরা জানি।আমাদের দেখে ফেলেছো এরই মাঝে। এসেছো বন্ধুত্ব করতে এও জানি।কিন্তু আমরা বলবো অন্যকিছু।আমাদের গ্রহের প্রতিটা মানুষ দেখতে এক আর একই মানের।আমাদের মধ্যে নেই দলাদলি, হিংসা বিদ্বেষ,নেই পরশ্রীকাতরতা।যেটা তোমাদের গ্রহের মানুষদের সাধারণ বৈশিষ্ট।তোমরাই নষ্ট করে দিয়েছো তোমাদের গ্রহের বসবাস যোগ্যতা!তাই আমাদের গ্রহের মানুষরা মিলে যেতে পারি না তোমাদের মতো হিংসুক, নিন্দুক আর জটিল মনের গ্রহবাসীদের সঙ্গে।
এসেই যখন পড়েছো এই গ্রহে,তোমরাই থাকবে এখন থেকে এখানে।আমরা থাকছি না আর।বিদায়।’

পরের দু’ দিনেই ঝড় থেমে এলো একসময়, সূর্যের দেখা মিলল অবশেষে।আমি আর অন্যান্য অভিযাত্রীরা অবাক হয়ে দেখলাম নীল গ্রহ পুরোপুরি ফাঁকা।সব কিছুই খালি;মানুষ কেন,কোন প্রাণের সাড়াশব্দ আর বাকী নেই নীলগ্রহের জনমানবহীন প্রান্তরে,যেনো ছিলই না কখনো,কোনোদিনও!

 

লেখকের অন্য পড়তে ক্লিক করুন-

ছোট ছিলাম একাত্তরে-১

ছোট ছিলাম একাত্তরে – ২

ছোট ছিলাম একাত্তরে-৩

ছোট ছিলাম একাত্তরে – ৪

অপ্রাকৃতিক

গিনি

সত্য গল্প : কলিগ

জ ন শূ ন্য

 

 


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com