সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

খাগাউড়ার ভিলেজ পলিটিক্স কেন প্রাণঘাতী?

নিহত জুনায়েদ

নূরুল ইসলাম মনি :: জুনায়েদ আহমেদ; ৩৪ বছর বয়সী এক কর্মঠ টগবকে যুবকের নাম। পাখি ডাকা ভোর থেকে আঁধারে ঢাকা রাত পর্যন্ত যে যুবক নিজের পেশায় ছিল নির্লিপ্ত। যার বন্ধু ছিল অগুণিত, শত্রু“ ছিল না কেউ। যে যুবক পরিবারের উন্নতি আর এক বছরের কম বয়সী একমাত্র কন্যাকে মানুষ করার স্বপ্নে ছিল বিভোর। ওই যুবক ভিলেজ পলিটিক্স বুঝতো না, এ বিষয়ে আগ্রহও ছিল না তার। তাকেই হতে হলো ভিলেজ পলিটিক্স-এর বলি! বলছিলাম বাহুবল উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে ২৪ আগস্ট প্রতিপক্ষের নির্মম আক্রমণে নিহত জুনায়েদ আহমেদের কথা। খাগাউড়া গ্রামের আব্দুল আউয়াল ওরপে উচা মিয়ার পুত্র জুনায়েদ ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিল।

বাহুবল উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রসিদ্ধ গ্রাম খাগাউড়া। বহু রতি-মহারতির জন্ম হয়েছে গ্রামটিতে। এ গ্রামে সংসদ সদস্য, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতার জন্ম হয়েছে। অত্র উপজেলার আর কোন গ্রামে এতো সফল মানুষ নেই। এসব ক্ষণজন্মা মহাপুরুষরা গ্রামটিকে আলোকিত ও খ্যাত করেছেন। এ সুখ্যাতি ধরে রাখা গেল না পঞ্চায়েত আর পঞ্চায়েতি টাকা-পয়সার (হাওর-বিলের মৎস্য সম্পদ বিক্রিত অর্থ) ঝনঝনানির কারণে। গ্রাম পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কয়েকটি বিল ও জলাশয়। এ বিল ও জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ বিক্রিত অর্থই সময় সময় সকল অনর্থের মূল হয়ে দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল, দলাদলি, প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মামলা-হামলা গ্রামটির নিরীহ লোকজনের শান্তি বিঘ্নিত করে চলেছে। এর যেন শেষ নেই কিংবা শেষ হতে দিচ্ছে না কেউ। গ্রামটির পঞ্চায়েতি আয়-ব্যয় দেখভালের দায়িত্বে যারাই ছিলেন-সমালোচনা কম-বেশি সকলেরই ছিল। সে সময়গুলোতে হয়তো আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ পেয়েছে- এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল কিংবা আলোচনা হয়েছে। যে কারণে সন্দেহ-অবিশ্বাস এবং ক্ষমতার মোহ ডাল-পালা মেলার সুযোগ পায়নি। ইদানীং হয়তো বা আলোচনার দরজাটি বন্ধ ছিল, তাই বদ্ধ ঘরের সন্দেহ-অবিশ্বাসগুলো হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। আর সেই হিংসা-প্রতিহিংসার আগুনে যখন দক্ষিণা বাতাস লাগলো তখনই তা নিয়ন্ত্রণ হারালো। হয়ে উঠলো সহিংস, রক্তাক্ত হলো জনপদ। এ রক্তধারা কি বন্যায় রূপ নেবে- তা জানি না। তবে আমরা রক্ত চাই না, চাই শান্তি, পঞ্চায়েত বা ভিলেজ পলিটিক্স-এর নামে জুলুম চাই না, চাই ভ্রাতৃত্ব পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। পাশাপাশি চাই প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চাই দ্বন্দ্ব-কোন্দলের স্থায়ী অবসান। এ জন্য দরকার গ্রাম পঞ্চায়েতটিকে ‘অর্থ’ মুক্ত করা, তবেই বন্ধ হতে পারে ‘অনর্থ’।

আলোচিত খাগাউড়া গ্রামের পঞ্চায়েতি আয়ের উৎস যদি বৈধ হয়, তাহলে তা একটি কাঠামোর মধ্যে এনে লব্ধ অর্থ স্থানীয় কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাতে এলাকার মানুষ সমান ভাবে লাভবান হবে। আর যদি আয়ের উৎস অবৈধ হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাবার এখনই সময়। মনে রাখতে হবে, গর্তে সাপ রেখে গর্তের মুখ বন্ধ করলে কোন লাভ হবে না। ধূর্ত সাপ নতুন গর্ত খুড়ে বের হবেই।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com