সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

যেসব আচরণে বুঝবেন স্বামী বিচ্ছেদ চায়

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রেম-ভালোবাসা ও সংসার স্বর্গ থেকে আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন বোঝাপড়া ভালো হয়, তখন সংসার সুখের হয়। তখন পৃথিবীতে পাওয়া যায় স্বর্গের সুখ। কিন্তু সেই সঙ্গীর সঙ্গে যখন দূরত্ব সৃষ্টি হয়, কাছে থেকেও আপন মানুষটি দূরের হয়ে যায় এবং অমানুষের মতো আচরণ করে, তখন পৃথিবীটাই যেন নরক হয়ে ওঠে।

পুরুষরা যেভাবে সম্পর্ক বিষয়টিকে দেখেন, নারীদের দেখার ভঙ্গিটি কিন্তু তারচেয়ে বেশ খানিকটা ভিন্ন। নারী যখন কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে মন থেকে জড়িয়ে যান, তখন চেষ্টা করেন যে কোনো মূল্যে সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে।

মনে রাখবেন- শারীরিক নির্যাতনের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন। আপনার স্বামী যদি আপনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তবে আপনি বুঝবেন- তিনি মুখে সরাসরি বলতে না পারলেও তিনি বিচ্ছেদ চান।

আসুন জেনে নিই স্বামীর যেসব আচরণে বুঝবেন তিনি বিচ্ছেদ চান-

শারীরিক সৌন্দর্য

স্বামী যদি আপনার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে অহেতুক রসিকতা করে। তিনি যদি বলেন- আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে। আপনি কালো হয়ে যাচ্ছেন। বিয়ের পর থেকে আপনার সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। তার মন্তব্যগুলো এতটাই তীক্ষ্ণ হয় যে, আপনি বিষণ্ণবোধ করেন এবং হীনমন্যতায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু তাতে তার কোনো ভাবান্তর হয় না। তিনি মনে করেন স্ত্রীর শারীরিক সৌন্দর্যটাই সব।

অপমান

স্বামী-স্ত্রী রসিকতার সম্পর্ক থাকতেই পারে। তবে তা কারো মনে কষ্ট দিয়ে নয়। রসিকতা এক জিনিস, আর রসিকতার ছলে কাউকে অপমান করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আপনার স্বামী কথার বলার সময় তিনি কোনোভাবে আপনাকে আপমান করে কি না।

আত্মীয়স্বজন বা মেহমানদের সামনে আপনাকে ছোট করে কোনো কথা বলে কি। তা হলে বুঝবেন স্বামী আপনাকে সহ্য করতে পারছে না। তিনি মুখে না বললেও ব্যবহারে বোঝাতে চান- আপনাকে আর ভালো লাগে না।

সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

সম্পর্কে বা সংসারে দুজনেরই মতামত জরুরি। সব কিছুই হতে হবে দুজনের ইচ্ছা অনুযায়ী। সঙ্গীর কাজ সর্বদা তাকে সম্মান ও ভালোবাসা দেয়া। একজন গৃহবধূও ততটাই সম্মানের দাবিদার।

আপনার স্বামী যদি আপনার কোনো সিদ্ধান্তে গুরুত্ব না দেন। এ ছাড়া আপনাকে না জানিয়ে সংসারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তবে বুঝতে হবে তিনি আপনাকে পছন্দ করেন না।

স্বামীর ভুল হলেও ভোগান্তি আপনার

সম্পর্কে ঝামেলা, ঝগড়াঝাঁটি থাকবেই। দিনশেষে সেটি ঠিক হয়ে যাবে, যার দোষ তার সরি বলার মাধ্যমে। যদি সবকিছুতেই কেবল আপনাকেই দোষ দেয়া হয়, দোষ যারই হোক সর্বদা যদি আপনাকেই সরি বলে সবকিছু ঠিক করতে হয়, তা হলে সেটি স্রেফ মানসিক নির্যাতন। সঙ্গী আপনাকে মানসিক চাপে ফেলতেই বারবার মাথা নত করতে বাধ্য করছেন।

নির্বোধ, ক্ষুদ্র ও মূল্যহীন

স্বামী প্রায়ই এমন আচরণ করেন বা এমন কথা বলেন, যার ফলে নিজেকে আপনার খুব অকিঞ্চিৎকর মনে হয়। আপনি নিজেকে অসুন্দর, অযোগ্য, নির্বোধ ইত্যাদি আরও অনেক কিছুই ভাবতে শুরু করে দেন। যদিও পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। আপনাকে তার বিশেষ ও দারুণ অনুভব করার কথা।

পিতামাতা, বন্ধু ও পরিবার

প্রিয়জনদের নিয়ে তিনি বিরূপ মন্তব্য করেন। আপনার পরিবার বা বন্ধুদের তার ভালোলাগে না। তিনি কটু মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেন না। সবারই কিছু না কিছু দোষ তিনি খুঁজে বের করেন এবং আপনাকে প্রায়ই বাধা দেন অনেকের সঙ্গে মেলামেশা করতে।

এসব আচারণ উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। আপনাকে বুঝতে হবে- গায়ে হাত তোলা কিংবা গালাগাল করা নয়; নিচুস্বরে, নীরবে, কেবল কুমন্তব্য বা কাজের মধ্য দিয়েও একজন মানুষকে দিনের পর দিন নির্যাতন করা যায়। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হবে স্বামীর সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করতে হবে। যদি আপনি বলতে না পারেন, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের দিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে পারেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com