বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

রাজীব গান্ধী হত্যায় দণ্ডিতদের মুক্তির সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গন্ধী হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া সাতজনের মুক্তির সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার সুপারিশনামা শিগগিরই প্রাদেশিক গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ফিশারিজ মন্ত্রী ডি জয়াকুমার।

তিনি বলেন, গভর্নরই হচ্ছেন রাজ্যের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। তিনিই সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন। তাছাড়া, জনগণের সেন্টিমেন্ট তাদের মুক্তির পক্ষে বলেও জানান জয়াকুমার।

সাজাপ্রাপ্তরা ২৭ বছর ধরে কারাগারে আছে। ২০১৪ সালে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা তাদেরকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কেন্দ্রীয় সরকার সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

গতমাসে সাজাপ্রাপ্তদের একজন এজি পেরারিভালান সুপ্রিম কোর্টে সাজা মওকুফের আবেদন করলে আদালত তামিলনাড়ুর গভর্নর বানওয়ারিলাল পুরহিতকে সিদ্ধান্ত নিতে বলে। এরপরই রাজ্য সরকার সবার মুক্তির চাওয়ার এ উদ্যোগ নিল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যুক্তি দেখিয়ে বলেছে, সাজাপ্রাপ্তরা প্রত্যেকেই তাদের আগাম মুক্তির জন্য আবেদন করায় সবাইকেই মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। কিন্তু এজন্য রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রের অনুমোদন পেতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কারণ এর আগে ২০১৪ সালে জয়ললিতার আবেদনের জবাবে সুপ্রিমকোর্ট বলেছিল, রাজ্য সরকারকে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে হবে।

কিন্তু সব সরকারই সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির বিরোধিতা করেছে। গত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সাজা পাওয়া ৭ জনের মুক্তির বিরোধিতা করে। ইউনিয়ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর বিপক্ষে মত দেন।

১৯৯১ সালের মে মাসে এলটিটিইর আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন রাজীব গান্ধী। এ হত্যা মামলার বিচার এবং সাজা তামিলনাড়ুর জনগণের জন্য সবসময়ই একটি আবেগের বিষয় হয়ে আছে।

রাজ্যের অনেক বাসিন্দার বিশ্বাস, রাজীব গান্ধীকে গুপ্তহত্যা পরিকল্পনায় ২৭ বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া ওই সাত ব্যক্তির খুব সামান্য ভূমিকাই ছিল। এমনকি তারা হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না বলেই তারা মনে করে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, এজি পেরারিভালান, মুরুগান, সানথাম, নলিনি শ্রীহরণ, রবার্ট পায়াস, জয়াকুমার ও রবিচন্দ্রন।

সুপ্রিমকোর্টে এজি পেরারিভালানের পিটিশনের জবাবে গত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আদালতকে বলেছে, রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তি দেয়া ঠিক হবে না। এটি সবচেয়ে জঘন্য এবং নিষ্ঠুর অপরাধ। যদি তাদের মুক্তি দেয়া হয় তবে সেটি ভয়ঙ্কর নজিরে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি উদারহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কিন্তু সম্প্রতি গত জুনে কংগ্রেস পার্টির সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র তাদের বাবার হত্যাকারীদেরকে সম্পূর্ণ মাফ করে দিয়েছেন বলে ঘোষণা দেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com