রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

পাসপোর্ট নিয়ে দুটো কথা

আরিফ জেবতিক :: আজকে পত্রিকায় দেখলাম পাসপোর্ট অধিদপ্তর জরুরি প্রয়োজনে ১ দিনে পাসপোর্ট নবায়নের চিন্তাভাবনা করছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাত্রী এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতার কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি জনবান্ধব চিন্তা করায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই।
পাসপোর্ট তৈরি করা এক বড় বিড়ম্বনার বিষয়। যদিও ঘাটাঘাটি করে দেখলাম, এখন বিষয়টা আগের তুলনায় কিছুটা কম কষ্টের; তবে অল্প চেষ্টাতেই কিন্তু পাসপোর্টের হয়রানি কমিয়ে আনা সম্ভব। নিচের বিষয়গুলো একটু ভেবে দেখা যায় কী?

১. মেয়াদ : প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের পাসপোর্টের মেয়াদ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ১০ বছর। কারন অনেকেরই পাসপোর্টের পাতা অব্যবহৃত রয়ে যায়। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাস শ্রমিক হয়তো ৫ বছরে ১ বার কি ২ বার দেশে আসা যাওয়া করেন, একজন মধ্যবিত্ত মানুষ হয়তো ২ বছরে ১ বার বিদেশে বেড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৫ বছর পরপর নতুন করে পাসপোর্ট তৈরি করতে হলে সেটা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। দ্বিগুন পাসপোর্ট বই লাগছে, নাগরিকদেরকে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হচ্ছে এবং ওখানকার সরকারি কর্মচারিদের শ্রম ও অন্যান্য সরকারি রিসোর্স অপচয় হচ্ছে। তাই সাধারন পাসপোর্টের মেয়াদ উন্নত বিশ্বের মতোই ১০ বছর করা উচিত।

২. এপয়েন্টমেন্ট : আবেদনপত্র জমা দেয়ার লাইনটা হচ্ছে হয়রানি ও দালালবাজির বড় জায়গা। পাসপোর্টের আবেদন জমা দেয়ার জন্য আগে থেকে এপয়েন্টমেন্ট নেয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে সকালে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ পাসপোর্ট অফিসে ভিড় করেন, স্বাভাবিক ভাবেই লম্বা লাইন শুরু হয়-এবং তখন সেই লাইন ভেঙ্গে আগে যাওয়ার ঝগড়া বিবাদ, দালালদের স্পিডমানি-সব হয়রানির মূলে এইটা। তাই অনলাইনে পাসপোর্টের ফরম ফিলাপের পর সেখানেই অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট সময় নির্ধারন করাটা চালু করা দরকার। একটা পাসপোর্ট অফিসে যদি দিনে ৮ ঘন্টায় ৮শ আবেদন পড়ে, তাহলে সবাইকে তো সকালে গিয়ে হাজির হয়ে ৮শ লোকের লাইন দেয়ার দরকার নেই। প্রতি ঘন্টায় ১শ করে এপয়েন্টমেন্ট দেয়া যায়। এ ব্যবস্থা উন্নত বিশ্বে চালু আছে। সম্প্রতি দেখলাম ভিসা প্রসেসকারী সংস্থা ভিএফএস এও এটা চালু। আগে ইংল্যান্ডের ভিসা আবেদন করতে হলে ফজরের নামাজ পড়ে গিয়ে বারিধারায় লাইনে দাঁড়াতে হতো, এবার ১১.১৫ মিনিটে এপয়েন্টমেন্ট ছিল, নির্ধারিত সময়ে গিয়ে কোনো ভিড়ভাট্টা ছাড়াই শান্তিতে এপ্লিকেশন জমা দিলাম আধাঘন্টার মধ্যে। ইন্ডিয়ার জন্য আগের দিন সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়াতে হতো। এখন অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত দিনে গেলেই চলে।

এই পদ্ধতিটি পাসপোর্টের আবেদন গ্রহনের জন্যও চালু করা যায় এদেশে। জরুরিভাবে কেউ চাইলে সেটার জন্য আলাদা ফি দিয়ে ওয়াকইন এপ্লিকেশন জমা দেয়ার পদ্ধতি করা যায়। ডিজিটাল সরকারি ব্যবস্থায় এটি বড় কোনো বিষয়ই না।

৩. সত্যায়ন : এটা এদেশের হাস্যকর সিস্টেমগুলোর একটা। এদেশে ১শ টাকায় সিল বানিয়ে হরেদরে সত্যায়ন হয়। পাসপোর্ট অফিসের সামনে গিয়ে দেখবেন দালালদের হাতে হাতে সিলমোহর। তাই সত্যায়ন বিষয়টার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে। ব্রিটিশ আমলে এনালগ যুগে হয়তো এটার দরকার ছিল, এখন একদমই নেই। এটা বাদ দেয়া দরকার। কাউন্টারে অরিজিনাল স্মার্টকার্ড, অরিজিনাল সার্টিফিকেট দেখে নিয়ে ‘অবিকল পাইলাম’ বলে সিল মেরে দিলেই তো চলে।

আজকে দেখে ভালো লাগল যে এখন সেই সোনালি ব্যাংকে গিয়ে সারাদিন লাইন ধরে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেই, অনলাইনেও অনেকগুলো ব্যাংকে ফি জমা দেয়া যায়। এটা ভালো লক্ষন।
বাকি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করলে জনহয়রানি অনেক কমে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস। ( আমার পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কয়েক বছরের পুরোনো, এর মধ্যে আর কোনো পরিবর্তন আসলে সেটা এই লেখায় প্রতিফলিত হয় নি।)

*লেখকের ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com