রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

কষ্টে গড়া সংসার আগুনে পুড়ে ছাই

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সে সময় সবে মাত্র ভাত খেতে বসছিলাম আমরা দুই জনে। প্লেটে ভাতও নিয়েছি। কিন্তু ওই ভাত আর মুখে দিতে পারি নাই। নিচ থেকে আগুন লাগছে, আগুন লাগছে বলে চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনেই দৌড় দিছিলাম। এ দৌড়ে আমরা বাঁচলেও রৌদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সংসারে যা গড়ছিলাম সব পুড়ে ছাই হইছে। কিচ্ছু নাই..!’ বলছিলেন আগুনের দাবানলে সংসারের সর্বস্ব হারানো রাবেয়া বেগম।

শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে রাজধানীর কড়াই বস্তিতে। সে আগুন আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস সক্ষম হলেও তার আগেই সবর্স্ব পুড়েছে প্রায় ১০টি পরিবারের। সে আগুন কোনো কিছুই বুঝে উঠার আগেই সংসারের সব জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে ছাই করে দিয়েছে রাবেয়ার সংসারেরও। স্বামী বনানীর একটি বাসায় গার্ডের চাকরি করেন। আর তিনি অন্যের বাসায় কাজ করেন মাস ভিত্তিতে। দুজনের আয়ে মাসে আড়াই হাজার টাকার ভাড়া বাসায় একটা দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে তিনি প্রায় দুবছর ধরে থাকেন সেখানে।

ঘর বাঁধার পর গায়ের ঘাম ঝরিয়ে উপার্জিত অর্থে স্বামী-স্ত্রী ধিরে ধিরে সাজাতে শুরু করেন প্রাণের সংসার। কিন্তু ঘামে গড়া সংসার এক নিমিষেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। জীবনের পাওয়া না পাওয়ার খাতায় দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেও যখন সংসারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধের ধারা বইতে শুরু করল, ঠিক তখনি আবার অপ্রত্যাশিত আগুনের ঘটনায় স্তব্ধ তিনি। কোনো ভাবেই ভুলতে পারছেন আগুনের লেলিহানের ছোঁয়ায় সুখের ঘর ভস্মীভূত হওয়ার হৃদয় বিদারক সে দৃশ্য।

রাবেয়া বেগম বলেন, যখন লোকজনের চিৎকার শুনলাম তখন কোলের বাচ্চারে নিয়ে স্বামীসহ নিচে আসলাম। নিচে এসে যখন দেখলাম আমাদের ঘর বরাবর নিচের একটি তুলার দোকানে আগুন লাগছে। আগুন লাগা মাত্রই দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে। তখন আমি দৌড়ে ঘরে যেতে চাইলে সবাই টেনে ধরে রেখেছে। কেউ যেতে দেইনি ঘরে। যদি যেতাম কষ্ট করে গড়া সংসারের জিনিসগুলো অন্তত বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু আমার সব শেষ..!

একই অবস্থা বিপ্লদেব দাস নামের একজন হার্ডওয়ার ব্যবসায়ীর। তার দোকানে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও যন্ত্রাংশসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এগুলো সব নিজের টাকা হলেও এত কষ্ট লাগত না যত কষ্ট লাগছে ঋণ শোধ করার চিন্তায়। এ চিন্তায় এখন মাথায় কোনো কাজ করছে না।

কিন্তু আগুনের ঘটনার সময় সেখানে উল্টো একটা ঘটনাও ঘটেছে। সে ঘটনায় একটা মোবাইল দোকান, দুইটা ভাঙারির দোকান, একটা ডিমের দোকান, দুইটা ফার্মেসিতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল খুইয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের কারও দোকান আগুনে একটুও পুড়েনি। কিন্তু আগুন নিভাতে গিয়ে দোকান খালি রেখে যাওয়ায় এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা দোকান লুট করেছে।

মোবাইল দোকানি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কেউ অন্যের বিপদে এগিয়ে যায় আর কেউ সুযোগ কাজে লাগায়। আমি পাশের দোকানে আগুন দেখে দৌড়ে গিয়ে সেটা নিভাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আগুন নিভানোর পর দোকানে এসে দেখি দোকানের সব মালামাল লুট হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল ছিল। শুধু আমার না, আরও অনেকের দোকান লুট হয়েছে। কিন্তু এটা কি বস্তির লোকেরা করেছে নাকি বাহিরের লোকেরা করেছে তা জানি না।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, আগুন বৈদ্যুতিক ঘটনায় আগুন লেগেছিল। এ ঘটনায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল এবং ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছিল। দোকানপাটসহ প্রায় ২০টা ঘর পুড়েছে। তবে মালামাল লুটের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com