রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে ১০ কিমি দীর্ঘ চর!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বঙ্গোপসাগরের ফৌজদারহাট থেকে শীতলপুর উপকূলে প্রায় ১০ কিমি দীর্ঘ একটি নতুন চর জেগে উঠেছে।

শিপব্রেকিং জোন এলাকায় গড়ে ওঠা এই চরের কারণে বেশ কিছু দিন ধরে শিপইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যা হুমকির মুখে ফেলেছে দেশের ভাসমান লৌহখনিখ্যাত জাহাজভাঙা শিল্পকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড উপকূলে হঠাৎ চর পড়তে শুরু করেছে। বিশেষত ভাটার সময় চরটি ব-দ্বীপ আকৃতি ধারণ করে এবং জাহাজ প্রবেশে অযোগ্য হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ফৌজদারহাট থেকে সোনাইছড়ির শীতলপুর পর্যন্ত এলাকায় বিস্তৃতি লাভ করেছে এ চরটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেগে ওঠা এই চর এলাকাটিই হচ্ছে শিপব্রেকিং জোন। এখানে প্রতিনিয়ত স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করা হয়। কিন্তু চরটি জেগে ওঠার পর থেকে এ এলাকার শিপইয়ার্ডগুলোতে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ জাহাজ প্রবেশে দারুণ প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে নতুন করে কোনো স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ইয়ার্ড মালিকরা, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এ শিল্পে।

সীতাকুণ্ড শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বেশিরভাগ স্ক্র্যাপ জাহাজ আনার মূল দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, হঠাৎ-ই ফৌজদারহাট থেকে শীতলপুর পর্যন্ত ৮-১০ কিমি জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার সাগর উপকূলে বিশাল চর জেগে উঠেছে। ঠিক জাহাজভাঙা শিল্প জোন এলাকাতেই এ চর জেগে ওঠায় এখন প্রতিটি স্ক্র্যাপ জাহাজ ইয়ার্ডে প্রবেশকালে বাধার মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর শিল্পপতি মো. শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন শিপ আইভান পাপনিন নামক জাহাজটি প্রবেশ করাতে গিয়ে দারুণ প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের।

এদিকে জেগে ওঠা নতুন চরটি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ ও ইয়ার্ড মালিকরা। গত শনিবার এ নিয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দ্য কপার সিমনি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে নতুন জেগে ওঠা চরসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলে সব শিপইয়ার্ড মালিক এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনের সভাপতি মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এ সভায় এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত চরাঞ্চল ড্রেজিং করার ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএসবিআরএর সভাপতি আবু তাহের, শিল্পপতি মো. শওকত আলী চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি শিল্পপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ শিপব্রেকার্স শিল্পপতি মাস্টার মো. আবুল কাসেমসহ উপস্থিত ইয়ার্ড মালিকরা।

শিল্পপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভাটিয়ারিতে একটি শিপইয়ার্ডে বাহির থেকে কারখানার বিভিন্ন রকম বর্জ্য এনে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই বর্জ্য সাগরে পড়ছে। তার ওপর পলি জমে এই চরা সৃষ্টি হয়েছে।

এখন ৮-১০ কিমি এলাকায় চর ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ আনা যাচ্ছে না। এই শিল্প থেকে বার্ষিক ১২০০ কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। জাহাজ আনা বন্ধ হলে ব্যাপক লোকসানে পড়বে দেশ।

কেআর গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি মো. সেকান্দার হোসেন টিংকু বলেন, এই চরের কারণে পুরো জাহাজভাঙা শিল্প এখন হুমকিতে পড়েছে। এটি ড্রেজিং করতে যত দেরি হবে, তত বেশি লোকসান হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিকুল আলম বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প এলাকায় যে চর সৃষ্টি হয়েছে তা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ না হলে শিল্পটির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে। বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) কর্তৃপক্ষ যদি লিখিতভাবে আবেদন করে, তা হলে আমি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সমস্যাটি তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করব।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com