সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

যাত্রীদের বাঁচানোটাই প্রধান ছিল: ক্যাপ্টেন জাকারিয়া

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নোজ গিয়ার ছাড়া ল্যান্ডিংয়ের সময়ে কী মনে হয়েছিল সেটা এখন মনে নেই। তবে যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় ছিল, যাত্রীদের বাঁচানোটাই প্রধান ছিল। সারাবাংলার সঙ্গে মুখোমুখি আলাপে কথাগুলো বলছিলেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। এ সময় তার পাশে বসেই মাথা নাড়ছিলেন ফার্স্ট অফিসার সাঈদ বিন রউফ।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএস-১৪১ ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ করে। সেই প্রসঙ্গে বুধবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। এরপর ক্যাপ্টেন জাকারিয়া এবং সাঈদ বিন রউফের সঙ্গে কথা হয়।

ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বলেন, সেই মুহূর্তে ঠিক কী মনে হয়েছিল এখন সেটা মনে নেই। তবে যাত্রীদের ‍সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় ছিল। তবে পাশে বসা ফার্স্ট অফিসার সাঈদ বিন রউফের দিকে তাকিয়ে বললেন- দু’জনই তখন চিন্তা করছিলাম, কী করে নিরাপদে ল্যান্ডিং করা যায়। ফ্লাইটের যাত্রীরা কিন্তু তখন ক্যাপ্টেনের ওপরই ভরসা করেছিল। তাই যেভাবে প্রশিক্ষিত হয়েছি, সেই প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। দীর্ঘ কর্মজীবনে নোজ গিয়ার ছাড়া ল্যান্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। ‘এটা খুব কমন ইনসিন্ডেন্ট না’।

গত আট বছর ধরে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। তারও আগে ১৫ বছর কাজ করেছেন বিমানবাহিনীতে। তার মোট অভিজ্ঞতা ২৩ বছরের। ১৭১ জন যাত্রীর সবাই বেঁচে আছেন। কেবিন ক্রুদের অবদানও এখানে অনস্বীকার্য। এ রকম উদাহরণ বাংলাদেশে রেয়ার, বলেন ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন জাকারিয়া এবং ফার্স্ট অফিসার সাঈদ তাদের কম্বাইন্ড অভিজ্ঞতাই এখানে কাজে লেগেছে।

ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের নোজ গিয়ার ছাড়াই ল্যান্ডিংয়ের পরও বড় ক্ষতি হয়নি। বেঁচে গেছেন ১৭১ জন যাত্রীর সবাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাই ফ্লাইটের পাইলটকে ‘বীর’ বলেও আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এসব প্রশংসায় কেমন লাগছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বলেন, ‘এটা অবশ্যই প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট- ভালো লাগছে। তবে এর সঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার, আমরা যেন এসব কথায় ওভার কনফিডেন্ট হয়ে না যাই। আমাকে আরও ফ্লাই করতে হবে, ওইটাই আমার শেষ ফ্লাইট ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, তার ইশারা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’

আমাদের জানা মতো নোজ গিয়ার ছাড়া এতো ‘সাকসেসফুল ল্যান্ডিং অ্যান্ড অ্যাস্কেপ’ অন্য কোথাও হয়নি বিশ্বে- বলছিলেন ফ্লাইটের ফার্স্ট অফিসার সাঈদ বিন রউফ। তিনি বলেন, ফ্লাইটে ১১টি শিশু ছিল। একজনের গায়েও কোনও আঁচড় লাগেনি। পরক্ষণেই হেসে বলেন, ‘ওই সময় আমি ভয়ে পেয়েছিলাম কি না সেটা অনুধাবন করার সময়ও পাইনি।’

নেপালে দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ইউএস-বাংলার সতর্কতার ঘাটতি ছিল কি না কিংবা বেশি সর্তকতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে কি না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে ইমরান আসিফ বলেন, কাঠমান্ডু ঘটনার পরে ইউএস-বাংলা লাইমলাইটে আসে। তারপরে অন্যান্য ছোটখাটো ঘটনা যেগুলো ঘটছে সেগুলোতে অনেক বেশি অ্যাটেনশন ড্র করছে। এগুলো এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। আমরা মানুষের অ্যাটেনশনে রয়েছি। কিন্তু অন্য ঘটনা যে ঘটছে না তা নয়। তবে সেগুলোও উল্লেখযোগ্য কিছু না। এ ঘটনাও এতো আলোচনায় আসতো না, যদি না কাঠমান্ডুর দুর্ঘটনাটি ঘটতো।

সেদিন কী হয়েছিল জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বলেন, সেদিন ফ্লাইট ছিল ঢাকা থেকে কক্সবাজারে। আমরা যখন কক্সবাজারে ফাইনাল অ্যাপ্রোচে যাই তখন নোজ গিয়ার নামানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখলাম গিয়ার নামছে না। আকাশেই তখন হোল্ড করি, দুই থেকে তিন হাজার ফুট উপরে। নোজ গিয়ার ককপিট থেকে দেখা যায় না, কিছু ইন্ডিকেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। টাওয়ারকে ইনফর্ম করি, আমরা একটু নিচ দিয়ে যাব (লো ফ্লাই), চেক করবেন নোজ গিয়ারটা আসলে নামানো আছে কিনা, আমাদের ইন্ডিকেশন ভুলও হতে পারে। কারণ ইন্ডিকেশন দেখাচ্ছে ‘নোজ গিয়ার ইজ নট ডাউন’।

নেপালে দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ইউএস-বাংলার সতর্কতার ঘাটতি ছিল কি না কিংবা বেশি সর্তকতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে কি না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে ইমরান আসিফ বলেন, কাঠমান্ডু ঘটনার পরে ইউএস-বাংলা লাইমলাইটে আসে। তারপরে অন্যান্য ছোটখাটো ঘটনা যেগুলো ঘটছে সেগুলোতে অনেক বেশি অ্যাটেনশন ড্র করছে। এগুলো এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। আমরা মানুষের অ্যাটেনশনে রয়েছি। কিন্তু অন্য ঘটনা যে ঘটছে না তা নয়। তবে সেগুলোও উল্লেখযোগ্য কিছু না। এ ঘটনাও এতো আলোচনায় আসতো না, যদি না কাঠমান্ডুর দুর্ঘটনাটি ঘটতো।

সেদিন কী হয়েছিল জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বলেন, সেদিন ফ্লাইট ছিল ঢাকা থেকে কক্সবাজারে। আমরা যখন কক্সবাজারে ফাইনাল অ্যাপ্রোচে যাই তখন নোজ গিয়ার নামানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখলাম গিয়ার নামছে না। আকাশেই তখন হোল্ড করি, দুই থেকে তিন হাজার ফুট উপরে। নোজ গিয়ার ককপিট থেকে দেখা যায় না, কিছু ইন্ডিকেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। টাওয়ারকে ইনফর্ম করি, আমরা একটু নিচ দিয়ে যাব (লো ফ্লাই), চেক করবেন নোজ গিয়ারটা আসলে নামানো আছে কিনা, আমাদের ইন্ডিকেশন ভুলও হতে পারে। কারণ ইন্ডিকেশন দেখাচ্ছে ‘নোজ গিয়ার ইজ নট ডাউন’।

ল্যান্ডিং করার আগে যাত্রীদের সবকিছু জানানো হয়েছিল কি না প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া বলেন, যাত্রীদের অধিকার রয়েছে একটি ফ্লাইটের সবকিছু জানার। এটা তাদের অধিকার। আমি তাদেরকে পুরোপুরি জানিয়েছি, আমরা নোজ গিয়ার ছাড়াই ল্যান্ড করব। একইসঙ্গে সে পরিস্থিতিতে তাদেরকে কী করতে হবে সে সর্ম্পকেও জানিয়েছি। আমরা যে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেছি, সেটা একার আমার না। এটা ছিল একটি টিম ওয়ার্ক। ফার্স্ট অফিসার, কেবিন ক্রু, সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিমানবাহিনীর। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com