রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে কী করবেন?

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সাধারণ মাত্রার রক্তচাপ আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। এই মাত্রার ওপরই নির্ভর করে রক্তচাপ হাই বা উচ্চ নাকি নিম্ন বা লো। আমরা বেশিরভাগই ভাবি যে উচ্চ রক্তচাপই বোধহয় শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু নিম্ন বা লো ব্লাড প্রেসারও শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এর আরেক নাম হাইপোটেনশন।

কীভাবে বুঝবেন রক্তচাপ কমে গেছে
প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়। ফলে প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ করা জরুরি।

কী করবেন রক্তচাপ কমে গেলে
১. স্ট্রং কফি, হট চকলেট এবং যেকোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে গেলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন। শরীর স্থিতিশীল হবে, আস্তে আস্তে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

২. আমরা সবাই জানি যে লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ লবণে আছে সোডিয়াম, এই সোডিয়ামই রক্তচাপ বৃদ্ধিতে সহায়ক। রক্তচাপ কমে গেলে পানিতে লবণ মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে। তবে বেশি পরিমাণে লবণ দেওয়া যাবে না। এজন্য এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেতে হবে। তবে ডায়বেটিস থাকলে চিনি খাওয়া যাবে না।

৩. কিসমিস হাইপোটেনশনের ওষুধ হিসেবে যুগ যুগ থেকে পরিচিত। এজন্য এক-দুই কাপ কিসমিস সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি খেয়ে নিন। তাছাড়া ৫টি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এতে করে কমে যাওয়া রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।

৪. ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান দ্রুত রক্তচাপ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। এজন্য খেয়ে নিতে পারেন পুদিনাপাতা। কারণ এতে এই উপাদানগুলো রয়েছে। আরও ভালো হয় যদি এতে মধু মিশিয়ে পান করা যায়।

৫. আয়ুর্বেদ চিকিৎসার শুরু থেকে যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আপনার রক্তচাপ বাড়াতে এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও একই উপকার পাবেন।

৬. বিটের রস নিম্ন ও উচ্চ রক্তচাপ উভয়ের জন্যেই সমান উপকারী। কারণ এই বিট আমাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিটের রস আপনার পছন্দের মতো উপায়ে এক সপ্তাহ খেয়ে দেখুন। এতে করে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com