রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

সিলেট শহরে ছিনতাই বেড়েছে ভয়াবহ হারে!

মু. আনোয়ার হোসেন রনি :: সিলেট শহরে ছিনতাই এখন নিত্যদিনের স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।নির্ধারিত কিছু যায়গায় নিয়মিত ছিনতাই এর ঘটনা ঘটছে।ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট রিক্সার মহিলা যাত্রী।তবে পুরুষরাও এর স্বীকার হচ্ছেন যখন তখন।কিছুদিন আগে ছিনতাইকারীর হাতে মাহিদ এর মত মেধাবী তরুণ কে জীবন দিতে হয়েছে।

দুপুর ১টায় এখানেই ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাত করে দুই রিক্সা যাত্রীকে।

গতকাল দুপুর ১ টার দিকে হঠাৎ আমার বাসার নীচে চীৎকার শুনেই বুঝতে পারি আমার বাসার পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় ছিনতাই হচ্ছে।বুঝতে কিছু সময় চলে যায়।যখন বুঝতে পারলাম তখন ছিনতাইকারী দু’জন পালিয়ে গেছে।দৌড়ে আমার বাসার সামনের দিকের বারান্দায় গিয়ে দেখি আমার কিশোরী ভাগ্নি মীম আর মুমু ভয়ে কাঁপছে।কারণ তারা যে রুমে ছিলো সেই রুমের পাশের রাস্তায় ঘটেছে ছিনতাই এর ঘটনা।আমার দুই ভাগ্নি নিজ চোখে দেখেছে একজন ভদ্রমহিলা আর এক ভদ্রলোককে কি নির্মমভাবে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাদের ব্যাগ মোবাইল ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে।তাদের চীৎকারে আশেপাশের লোকজন বেরিয়ে আসায় ওরা পালিয়ে যায়।যে সাইকেল চালাচ্ছিল তার ছিলো হেলমেট পরা আর যে ছিনতাই করছিল তার ছিল মুখভর্তি দাড়ি আর মাথায় টুপি-এমনটিই বলেছে আমার দুই ভাগ্নি।
ছিনতাইকারী দুজন ছিল মোটর সাইকেলে আর উনারা ছিলেন রিক্সায়।রক্তাক্ত হাত ধরে দুজনই কাতরাচ্ছিলেন আর মহিলা বার বার বলছিলেন “আমরা হাসপাতাল থেকে ফিরছি”।

কাশিশ আর মশলার দোকানের পাশ দিয়ে হাওয়া পাড়ায় যে রাস্তাটি ঢুকেছে,ওই রাস্তায় একটু সামনে গেলেই আঁকাবাঁকা পথ।এখানে প্রায়শই ছিনতাই ঘটে।

এই যায়গায় নিয়মিত ছিনতাই হয়।এই রাস্তাটি গেছে হাওয়াপাড়া মসজিদের দিকে।

এই পাড়ার দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা- রাত আটটা থেকে হাওয়াওপাড়া মসজিদ থেকে পুরো রাস্তা গেট লাগিয়ে বন্ধ করে রেখেছেন এই নিয়মিত ছিনতাই এর উপদ্রবের কারণে।কিন্তু এখানে প্রায়শই দিনের বেলাও ছিনতাই হচ্ছে।আমরা যারা এখানে বাস করছি,আমাদেরকে যখন তখন ছিনতাই এর স্বীকার মানুষের অর্তচীৎকারে কেপে উঠতে হয়।

গতকাল এগারোটার দিকে আরেকটি ছিনতাই ঘটে এর পাশেই অর্থাৎ সিলেট জেল এর উত্তরের দেয়ালের ওপাশে অবস্থিত হোটেল ডালাসের সামনে।সেখানে আক্রান্ত হন আমাদের সবার প্রিয় পান্না দা’র (বিশিষ্ট তবলা বাদক পান্না দাশ)সহধর্মিণী। ছিনতাইকারী একইভাবে মোটর সাইকেলে করে এসে বৌদির গলা থেকে প্রায় আড়াই ভরি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।
সাইকেল যে চালাচ্ছিল তার মাথায় হেলমেট আর অন্য জনের মুখে মাস্ক লাগানো ছিলো।

সন্ধ্যায় মিরের ময়দান এলাকায় এক দোকানে কফি খেতে খেতে পান্না’দা এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন দোকানের মালিক বলছিলেন তার দোকানের সামনে নাকি এই ক’দিনে বেশ কয়েকটি ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে।অথচ পাশেই সিলেট পুলিশ লাইন।

এটা এখন বলতেই হচ্ছে,সিলেট শহরে এখন ভয়াবহ হারে ছিনতাই বেড়েছে।শহরের কিছু যায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো

রাত ৮ টা থেকে এই গেট দিয়ে হাওয়াপাড়া’র এদিকের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয় ছিনতাইকারীদের ভয়ে।

হয়েছে।কিন্তু যে সব যায়গা ছিনতাইকারীরা তাদের অভয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত অবাধে ছিনতাই করে যাচ্ছে সেইসব এলাকা জরুরী ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরার আওতায় না আনলে চরম ঝুঁকির মুখে থাকবে এই শহরের মানুষ।

আশা করি প্রশাসন যথাশিঘ্রই ব্যবস্থা নেবেন।তা না হলে যেভাবে চিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে,রিক্সা সি এন জি আটক করে অবাধে ছিনতাই করছে তাতে সম্পদের পাশাপাশি প্রান হানির ও আশংকা রয়েছে। [ লেখকের ফেইসবুক থেকে]


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com