রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

শিক্ষকতা থেকে অভিনয়ে

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, মহান ব্রত। এ ব্রত পালনে শিক্ষককে হতে হয় নৈতিক আদর্শে উজ্জ্বল। যিনি শিক্ষার্থীর হূদয়ে জ্ঞান তৃষ্ণা জাগিয়ে, মনের সুকুমার বৃত্তিগুলোর পরিচর্চা করে শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষে পরিণত করেন তিনিই শিক্ষক। শোবিজের অনেক তারকাই এক সময় শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবার অনেকে অভিনয় ও শিক্ষকতা একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন কয়েকজনের খোঁজ দেয়া হল:

কলেজ পেরোনো জয়া আহসান স্নাতকে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন আগে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। সেই শিক্ষকতার গল্প তিনি এখনো বলেন। সেখানে শিক্ষিকা জয়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের কাছ থেকে প্রেমপত্র পেয়েছিলেন নাকি।

আজ থেকে এক যুগেরও বেশি সময় আগে চঞ্চল চৌধুরী রাজধানীর কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অরটারনেটিভর চারুকলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। অভিনয়ের ব্যস্ততা বাড়লে শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।

ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন অভিনেতা ড. ইনামুল হক। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি লাভ করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদিন এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। শিক্ষকতা করেও নিজেকে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি আপনার? তার উত্তর,‘নাহ কোন সমস্যা হয়নি। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতে গিয়ে বেশ সুবিধাই হয়েছে। আমি আমার মত সময় করে ক্লাসের সময় নির্ধারণ করতে পারতাম। কারণ আমি কারও কাছে নত হয়ে চাকরি করিনি।’ বুয়েটে মাঝেমধ্যে পার্টটাইম ক্লাস নেন তৌকির আহমেদও।

নারায়ণগঞ্জের সরকারী তুলারম কলেজের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন অভিনেতা জিয়াউল হাসান কিসলু। ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। রামেন্দু মজুমদার ও ড. ইনামুল হকের থিয়েটার স্কুলে অভিনয়েরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি অভিনেতা হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে কিছুদিন আগে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন অভিনয়েই সময় দেন।

সময়টা ১৯৮৮ সাল। রাজধানীর কলাবাগানের একটি কোচিং সেন্টার, নাম সোনার তরী। এখানে শিক্ষকতা করতেন তারানা হালিম। বর্তমান সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী। সেসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। আর এই কোচিং সেন্টারে তখন ছাত্রী ছিলেন অপি করিম। সেটা ছিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কোচিং। পেশায় আইনজীবী ছিলেন তারানা হালিম। এ পরিচয় অনেকেই জানেন। এম.পি হবার পর থেকে ছেড়ে দিয়েছেন আইন পেশা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ক্লাস নিতেন।

ওয়াহিদা মল্লিক জলি ১৯৮৯ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। রহমত আলী তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। ১৯৯০ সালে বিয়ে করে সংসার করতে শুরু করেন তারা। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি তারা মিডিয়াতে নিয়মিত কাজ করেছেন, যা অব্যাহত রেখেছেন। তারা দুজনই জানালেন, টাইম ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো করতে পারার কারণে তাদের এসব কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয় না। শিক্ষক হিসেবে তারা যখন ক্লাস নেন তারা তখন ভুলে যান যে তারা মিডিয়ার পরিচিত মানুষ। তারা জানালেন, যেহেতু তারা যে বিষয়টি পড়েছেন সে বিষয়টিই পড়াচ্ছেন এবং কাজও করছেন একই ক্ষেত্রে, সেহেতু সম্পূর্ণ ব্যাপারটি তারা অনেক উপভোগ করছেন। দুজনই জানালেন, তারা শিক্ষকতা এবং অভিনয়টাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার চেষ্টা করেন। এই বিভাগে শিক্ষকতা করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদও।

দিলারা জামানের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজেও তিনি শিক্ষকতা করেছেন। অভিনেত্রী হিসেবেই অপি করিমকে সবাই চেনেন। পাশাপাশি শিক্ষকতা করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার জন্যই অভিনয়ে নিয়মিত হতে পারেন না। তবে শিক্ষকতাই তিনি বেশি উপভোগ করেন। তাহসানও ব্রাকে নিয়মিত শিক্ষকতা করতেন। তবে অন্যন্যা ব্যস্ততার কারণে সেখানে পার্টটাইম ক্লাস নেন। তাহসানের সাবেক স্ত্রী মিথিলাও কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। এ প্রজন্মের অভিনেতা মনোজ কুমার ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ত্রপা মজুমদার ভালো ফল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু সেটা অবশ্য খুব বেশিদিন নিয়মিত করেননি। পরবর্তীতে নিজেদের এক্সপ্রেশনস অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিতে কর্মরত আছেন। তার মা ফেরদৌসি মজুমদার অবশ্য এখনো শিক্ষকতা করছেন। কর্মজীবন শুরু করেন আজিমপুর অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষকের। বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন সানবিমস স্কুলে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com