শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

ই-পাসপোর্টের গৌরবোজ্জ্বল তালিকায় বাংলাদেশ, যাত্রা শুরু ১৯ জুলাই

তোহুর আহমদ :: অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছর ডিসেম্বরেই নাগরিকদের হাতে পৌঁছাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট বই, যা ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত।

পর্যায়ক্রমে এটি বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জায়গায় প্রতিস্থাপিত হবে। সূত্র জানায়, জার্মান সরকারের সঙ্গে জিটুজি চুক্তির আওতায় ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’। ১৯ জুলাই জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের গৌরবোজ্জ্বল দেশের তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হবে। বর্তমানে ১১৮টি দেশ ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই নবযাত্রা শুরু হবে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেন। এরপর প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিআইপি) তৈরি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদফতর। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে ইতিমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬শ’ ৩৫ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, বর্তমান এমআরপি ব্যবস্থা থেকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। কারণ ই-পাসপোর্ট এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিদ্যমান বইয়ের সঙ্গে একটি ডিজিটাল পাতা (ডাটা পেজ) জুড়ে দেয়া হবে। ওই ডিজিটাল পাতায় উন্নতমানের মেশিন রিডেবল চিপ বসানো থাকবে। এতে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ডাটা পেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশও। ভ্রমণকালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য-উপাত্ত জানতে পারবেন।

তাছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঝামেলাহীনভাবে ই-গেট ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করা যাবে।

সূত্র বলছে, বর্তমানে পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে যে ধরনের এমআরপি বই দেয়া হচ্ছে সেগুলো জাল করা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ ধরনের কয়েকটি জাল এমআরপি ধরাও পড়েছে। বিদ্যামান এমআরপিতে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এর বেশিরভাগই জাল করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ই-পাসপোর্ট বইয়ের পলিকার্বোনেট ডেটা পেজ জাল করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ই-পাসপোর্টে থাকছে ৪২টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে দ্রুততম সময়ে আমরা ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করি।

এক্ষেত্রে আমাদের প্রথম চিন্তা ছিল সরকারি অর্থের সাশ্রয়। এজন্য আমরা জার্মান কোম্পানির সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে এমন একটি দর নির্ধারণ করতে পেরেছি, যা অন্য প্রকল্পগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর ই-পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশের মাটিতে গর্বের সঙ্গেই নিজের পরিচয় দিতে পারবেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের জন্য গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৮ মাস ধরে প্রকল্পের নানা দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ হবে ১০ বছর। জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে।

এছাড়া রাজধানীর উত্তরায় একটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে। দেশের বিভিন্ন বন্দরে ৫০ টি ই-গেট (ইলেক্ট্রনিক প্রবেশ পথ), দেশের অভ্যন্তরে ৭২টি পাসপোর্ট অফিস, ৮০টি বিদেশি মিশন, ৭২টি এসবি ও ডিএসবি (পুলিশের বিশেষ শাখা) এবং ২২টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টসহ সব অফিসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক প্রদান করবে জার্মানি।

প্রকল্পের আওতায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জর্মানিতে ২ সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া একটি দুর্যোগকালীন রিকভারি সেন্টার ও ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে জার্মানির সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি। যুগান্তর


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com