সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

লাদেনের বন্ধু ছিলেন খাসোগি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নিয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ তোলপাড় চলছে।

ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটে নিখোঁজ, পরে মৃত্যুর খবর- এ নাটকীয়তায় তার সম্পর্কে জানার আগ্রহের শেষ নেই। মার্কিন লেখক লরেন্স রাইটের লেখা ‘দ্য লুমিং টাওয়ার : আল কায়দা অ্যান্ড দ্য রোড টু ৯/১১’ নামের বই থেকে জানা গেছে, সাংবাদিকতা জীবনের বাইরে খাসোগির ভিন্ন রূপ।
বইটিতে বলা হয়েছে, তিনি আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

বইয়ের প্রথম দিকে বলা হয়, লাদেন ও খাসোগি উভয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ছিলেন। ব্রাদারহুড মতাদর্শ থেকে হঠাৎই তিনি সরে যান। গঠন করেন জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা। বইটির ৭৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়, কর্মজীবনে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগান আক্রমণ ও ওসামা বিন লাদেনের উত্থানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন করেন খাসোগি।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানের বিখ্যাত তোরাবোরা পাহাড়ে বেশ কয়েকবার ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খাসোগি। ১৯৮৮ সালের ৪ মে আফগানিস্তানে আল কায়দার অপারেশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরব নিউজে ছবিসহ একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন তিনি। ছবিতে তাকে আফগানি পোশাক পরা ও তার ঘাড়ে আরবিজি রকেটলঞ্চার দেখা গেছে।

১৯৫৮ সালের ১৩ অক্টোবর মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন খাসোগি। তার দাদা ছিলেন সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদের ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

সেই সুবাদে রাজপরিবারে তার বিচরণ। সৌদি রাজপরিবারের বহু গোপন বিষয়ও তিনি জানতেন। বলা হয়ে থাকে, খাসোগি রাজপরিবারের বাইরে থাকা একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যিনি আল কায়দার টুইন টাওয়ার হামলা নিয়ে সৌদি রাজপরিবারের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারগুলো জানতেন।
সৌদি অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাসোগির ভাতিজা ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে নিহত হন দোদি আল ফায়েদ। তিনি খাসোগির চাচাতো ভাই। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সখ্য থাকায় তুরস্কে বেশ গ্রহণযোগ্যতা ছিল খাসোগির।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com