রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

যানজটে আটকা, বিমান না পেয়ে বেঁচে গেলেন যাত্রী

ইন্দোনেশিয়ার বিধ্বস্ত বিমান। ছবি: রয়টার্স

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে লায়ন এয়ারের বিধ্বস্ত বিমানটিতে ওঠার কথা ছিল সোনি সেটিয়াওয়ান নামে এক ব্যক্তির।

কিন্তু পথে যানজটে আটকা পড়ে যান তিনি। তাই আর বিমানে ওঠা হয়নি তার। এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে অবিরত শুকরিয়া আদায় করে যাচ্ছেন সেটিয়াওয়ান।

কারণ তার পরিবারও দুর্ঘটনার কথা শুনে ভেঙে পড়েছিল। সোনির কথায়- কান্নাকাটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মাকে সামলানো যাচ্ছিল না। তার পরেই ওদের জানালাম- আমার কিছু হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাকার্তা ও পাংকাল পিনাংয়ের বিমানবন্দরে ভিড় করেন যাত্রীদের শোকসন্তপ্ত স্বজনরা।

এক তরুণী বিমানবন্দরে ঢোকার সময়েই কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ধৈর্য ধরো। বাবার জন্য প্রার্থনা করো।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, বিমানের লেজের দিককার ধ্বংসস্তূপের খোঁজ মিলেছে। মূল কাঠামোর জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জাভা সাগরে প্রচণ্ড স্রোত ও উঁচু ঢেউয়ে উদ্ধারকাজেও সমস্যা হচ্ছে।

নামানো হয়েছে সমুদ্রের তলায় কাজ করে এমন রোবটও। প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো এখন জোর দিচ্ছেন উদ্ধারকাজেই।

সস্তার বিমান সংস্থা লায়ন এয়ারের সিইও অ্যাডওয়ার্ড সিরেট জানিয়েছেন, ওড়ার আগের রাতেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল প্রায় নতুন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮-এ। আগের দিন বালি দ্বীপ থেকে জাকার্তার জন্য উড়েছিল এটি।

এদিকে ১৮৯ আরোহীর কেউ বেঁচে নেই বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বামবাং সুরিয়ো সোমবার এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের মূল ধ্বংসাবশেষটি খুঁজে পাওয়া দরকার। এ পর্যন্ত যতগুলো দেহাংশ খুঁজে পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে আমার ধারণা কেউ-ই বেঁচে নেই।

সোমবার জাকার্তা থেকে সুমাত্রার পেংকাল পিনাং শহরে যাওয়ার জন্য উড্ডয়নের ১৩ মিনিটের মাথায় লায়ন এয়ারের ফ্লাইট জেটি-৬১০ এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

লায়ন এয়ারের উড়োজাহাজটি জাকার্তা থেকে রওনা হয় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে। এক ঘণ্টার পর সেটি পেংকাল পিনাং শহরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে তিনটি শিশুও ছিল। দুজন পাইলট ও পাঁচজন কেবিন ক্রু মিলে ফ্লাইট পরিচালনা করছিলেন।

উদ্ধারকর্মীরা কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে। তবে কেউ বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ পায়নি। পানি থেকে মৃতদেহের খণ্ডাংশ, যাত্রীদের পরিচয়পত্র, শিশুর জুতা ও গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের মতো কিছু জিনিস পাওয়া গেছে।

কী কারণে জেটি ৬১০ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হল তা জানা যায়নি। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের এ উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ নতুন। এ রকম নতুন একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের এমন বড় ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com