সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:২১ অপরাহ্ন

বিদায় মানে বিদায়

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: আর নয় শোবিজে। অনেকতো হলো জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটা। জনপ্রিয়তাও মিলিছে, পরিচিত মুখ তিনি। নানা কারণে তারকারা আড়ালে চলে যান। একদম লোক চক্ষুর আড়ালে। আর হয়তো তাকে দেখা যাবে না ক্যামেরার সামনে। এমনকি বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গেও থাকে না কোন যোগাযোগ। এমন নজির রয়েছে সারাবিশ্বের শোবিজে জগতেই। এইতো ধরুণ, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সূচিত্রা সেন। জীবদ্দশায়ও তিন দশক অন্তরালেই ছিলেন। ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ ছবি `প্রণয় পাশা`। এর পরই বাই বাই জানান চলচ্চিত্রজগৎকে। একই সঙ্গে জনসম্মুখ থেকেও নিজেকে আড়াল করে রাখেন। টেলিভিশন চ্যানেলেও তাকে আর দেখা যায়নি। তার কোনো সাক্ষাৎকার কোনো পত্রপত্রিকায় কিংবা বৈদ্যুতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। গণমাধ্যম তার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ফ্ল্যাটেও যেতে পারেনি। তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন, কন্যা-জামাতা, দুই নাতনি ও ঘনিষ্ঠ পরিচিত কিছু মানুষ ছাড়া কেউই সুচিত্রার নাগাল পায়নি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সে খবর সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছেছে অনেক পরে। অন্তরালের কারণেই অন্য হাসপাতালে না গিয়ে অসুস্থ হয়ে বরাবরই কলকাতার মিন্টো পার্কের বেলভিউ নার্সিং হোমেই ভর্তি হয়েছেন তিনি। পরিচিত এই ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোন জায়গায় না যাওয়াও স্পষ্ট। এভাবেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।

কিন্তু কেন ছিল তার এই অন্তর্ধান? এই প্রশ্ন যেন অমিমাংসিত এক মহারহস্যের মতো; যার উত্তর নিয়ে চলেছে হাজারো কল্পনা, কিন্তু সমাধান মেলেনি কোথাও।

শাবানাও বিদায় নিয়েছিলেন এমন করে। ২০০০ সালের পর প্রায় ১৫ বছর তার কোঁন খোজ ছিল না। বছর দুই- তিন হলো তিনি ফের মিডিয়াতে মুখ দেখাতে শুরু করেছেন। যদিও অভিনয় নয়, তিনি শোবিজের মানুষের আপ্যায়ন রক্ষা করতে গেলেই তাঁর দেখা মেলে।

শাবনাজ- নাঈম দম্পতিও সিনেমা ছেড়ে দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। বছর দুই হলো টুকুটাক সিনেমা সংশ্লিষ্ঠ অনুষ্ঠানে দেখা যায়। তবে সেটা খুবই কম। শাকিল খানও আর সিনেমায় অভিনয় করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। তিনিও দীর্ঘদিন নিজের মত করে আড়ালে ছিলেন। সিনেমা সংশ্লিষ্ঠ কোন মানুষের সঙ্গে ছিল না কোন যোগাযোগ। জয়া আহসানের স্বামী ফয়াসালও শোবিজকে বিদায় জানিয়ে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায় মন দিয়েছেন। নায়ক শাহিন আলম অশ্লীলতায় জড়ালেও কিছু ভালো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তিনি এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। জনপ্রিয় মডেল পল্লব, শামস সুমন, সমু চৌধুরীরাও আছে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায়। নেই তাদের কোন খোঁজ নেই। বাংলাদেশে থাকলেও নেই কোন খবর।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ নেই লাক্স তারকা আফসান আরা বিন্দুর। তার স্বামী আসিফ সালাহ উদ্দিন মালিকও স্ত্রীর কোনো খোঁজ দিচ্ছেন না। বিয়ের পর শোবিজ ছেড়ে সংসার নিয়ে নিভৃতচারীর জীবনযাপন শুরু করেছিলেন বিন্দু। ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর বিন্দু বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন ব্যবসায়ী আসিফ সালাহ উদ্দিন মালিকের সঙ্গে। এরপর থেকেই রয়েছেন আড়ালে। কিছুদিন আগে আলোচনায় এসেছিলেন ডিভোর্সের খবরে। কিন্তু তখনও মেলেনি বিন্দুর দেখা। বিন্দু নেই ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

সারিকাও বিয়ের পর সবকিছু ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন সবকিছু ছেড়ে। ডিভোর্সের পর অবশ্য তিনি মিডিয়াতে নিয়মিত হচ্ছেন। সারিকার মত মিডিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মোনালিসাও। কিন্তু ডিভোর্সের পরে তিনি ফিরে এসেছেন শোবিজে। কিন্তু যুত করতে না পেরে, ফের পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। এখন মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে ফিরে অভিনয়ে ব্যস্ত হন। বিয়ে অবশ্য অনেককেই শোবিজ থেকে আড়ালে নিয়েছে। সাহারা , রোমানা, শায়না আমিন, রেসি, নাফিসারাও নিজেদের আড়ালে রেখেছেন বিয়ের পর।

সুবর্ণা মোস্তফার বোন ক্যামেলিয়া মুস্তাফাও এককালের টিভি অভিনেত্রী ছিলেন। তবে শোবিজকে বিদায় বলেছেন অনেক আগে। তার মতোই বিদায় জানিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শিলা। মিডিয়ার মানুষদের সঙ্গে তার এখন খুব একটা যোগাযোগ নেই বললেই চলে। অবশ্য গত সপ্তাহে জয়ার আমন্ত্রনে ‘দেবী’ সিনেমা দেখতে এসেছিলেন। আবুল হায়াতের ছোট কন্যা ও বিপাশা হায়াতের ছোট বোন ও অভিনেতা শাহেদের স্ত্রী নাতাশাও এক সময় অভিনয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি এখন শোবিজ ছেড়ে আঁকাআঁকি আর লেখালেখিতেই মন দিয়েছেন।

নায়িকা মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান। চলচ্চিত্রে আসেন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত অনন্ত ভালোবাসা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। একই ছবিতে শাকিব খান প্রথম অভিনয় করেন। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে আড়ালে চলে যান। নায়িকা রত্নাকেও আর দেখা যায় না। না চলচ্চিত্র, না চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কোন অনুষ্ঠানে।

হুট করে শোবিজ থেকে বিদেশ পাড়ি জমানো তারকাদের সংখ্যাও কম নয়। হারিয়ে যাওয়া মেধাবী এই সব অভিনেত্রীদের কাতারের শুরু থেকে বলতে গেলে বলতে হয়- প্রিয়া ডায়েস, ছন্দা, তমালিকা, শ্রাবন্তী প্রমুখ। এই সময়ে এসে ছোটপর্দা থেকে অনেকটা হারিয়ে গেছেন ফারজানা ছবি, শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, আলভি। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে। বিদায় জানাচ্ছেন, কেউ ফিরছেন। কেউবা হারিয়ে যাচ্ছেন চিরতরে। মাঝেমধ্যে সংবাদ হচ্ছেন ফিরছেন অমুক নায়িকা। কিন্তু ফিরলেও স্বমহিমায় দেখা যাচ্ছে খুব কম অভিনেত্রীদেরই।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com