রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

নাইকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নাইকো দুর্নীতি মামলায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের অভিযোগ শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারের ভেতরে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এ শুনানি হয়েছে।

বুধবার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে শুনানি শেষ করতে বলেছেন আদালত।

শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া আদালতকে বলেন, আদালতে যদি আমি আসি, তাহলে উনাকে(শেখ হাসিনা) আসতে হবে। কারণ উনি যেই প্রক্রিয়াটা শুরু করেছিলেন, সেটা আমি অব্যাহত রেখেছি।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে তাকে হাসপাতালের ৬১২ নম্বর কক্ষ থেকে বের করা হয়। পরে একটি কালো এসইউভিতে করে কারাগারের পথে রওনা দেয়া হয়।

বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া কারাগারের আদালতে পৌঁছান। এসময় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী ছিল তৎপর।

হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালে একটি গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একজন কারা কর্মকর্তা জানান।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারাগারের একটি ভবনে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তাকে হাজির করা হবে।

হাজিরা শেষ হলে তাকে কারাগারে নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার আদালত স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে কারা ভবনে বিশেষ এজলাসে আদালতের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শুরুর পর প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপির খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপেও খালেদা জিয়ার জামিনের জোরালো দাবি করেন বিএনপি নেতারা।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার বাত, ডায়াবেটিস, কোমরে ব্যথাসহ কিছু সমস্যা রয়েছে।বিএসএমএমইউতে তার চিকিৎসা চলছিল।

গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তখন থেকে তিনি বিএসএমএমইউয়ের ৬১২ নম্বর কেবিনে ছিলেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com