সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

সিনেমার বাইরে ভারতীয় গানের অবস্থা কী?

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সমসাময়িক পপ, রক সংগীতে ভারতের চাইতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। একথা খোদ ভারতীয়রাও স্বীকার করেন। কারণ ভারতীয় সংগীত অনেকটাই সিনেমার গানের উপর নির্ভরশীল। নিজ দেশের বাজার ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজার দখল করে নিয়েছে তাঁদের সিনেমার গান। তবে দেশটিতে যে একেবারেই পপ, রকের অস্তিত্ব নেই, তা কিন্তু নয়।

নব্বইয়ের দশকে যখন বিশ্বায়নের হাওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লাগতে শুরু করেছে, তখন ভারতীয় ননফিল্মি অর্থাৎ, সিনেমার গানের বাইরে বেশকিছু শিল্পী ও গানের দল বেরিয়ে আসে। যারা পাশ্চাত্য সংগীত দ্বারা প্রভাবিত হলেও ভারতীয় সংগীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এমনই একজন আলিশা চিনয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত আলিশার প্রথম অ্যালবাম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র উত্তাপ বাংলাদেশেও ছড়ায়।

এরপর সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তির ‘দোলে দোলে’, ‘জিন্দেগী’ এবং ‘বেচ্যাইন দিল’ গানগুলো ছিল সে সময়ের টপ চার্টে। ‘ম্যানে পায়েল হ্যায় ছানকায়ি’ খ্যাত ফাল্গুনি পাঠককে ক’জনই বা ভুলতে পেরেছে। বাবা সেহগালের ‘দিল ধড়কে’ গানের র‍্যাপ সংগীতে যোগ করে নতুনত্ব। এই শতাব্দীর শুরুর দিকে আদনান সামিও উঠে এসেছিলেন ননফিল্মি গান দিয়ে। পরবর্তীতে লেসলি লিউইস, বালি ব্রম্ভট-এর মতো শিল্পীরা দিয়েছেন পপের হাওয়া।

সে সময় এসব গান জনপ্রিয়তা পাওয়ার যথেষ্ট যুক্তিও ছিল। কারণ তখন ভারতীয় সিনেমায় সংগীত নিয়ে পরিক্ষি-নিরিক্ষা খুব কমই হতো। সিনেমার একই ধাঁচের গান শোনা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল শ্রোতারা। তাই সমসাময়িক ননফিল্মি গানের চর্চা বেড়ে যায়। আর সেই সঙ্গে ঝাঁ চকচকে মিউজিক ভিডিও তো আছেই।

শ্রোতাদের পাশপাশি বলিউডের শিল্পিরাও তখন ননফিল্মি গানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সনু নিগমের অ্যালবামগুলো ছিল ব্যাপক হিট। লাকি আলি তাঁর `সিফর` অ্যালবামে গাইলেন মারাত্মক সব গান। এমনকি অভিজিত্‍, কুমার শানু ও অলকা ইয়াগনিকরাও আছেন এই তালিকায়।

মেলোডি নির্ভর ব্যান্ডগুলোও যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে ভারতীয় সংগীতে। বোম্বে ভাইকিংস, ব্যান্ড অব বয়েস, মোহিত চৌহানের ব্যান্ড ‘সিল্ক রুট’, ইন্ডিয়ান ওসান, কিংবা বোম্বে ব্রংসসহ নানা ধরনের ব্যান্ড তখন উঠতি বয়সী শ্রোতাদের আইকন। পাকিস্তানি জুনুন, জাল, ফিউজন এবং স্টিংসও মাতিয়েছে এক দশক।

ভারতীয় পপের সর্বশেষ ঝলক দেখা যায় ২০০৫-০৬ সালের দিকে। সে সময় ইন্ডিয়ান আইডল থেকে উঠে আসা অভিজিৎ সাওয়ান্ত এবং হিমেশ রেশামিয়া বেশকিছু ননফিল্মি গান উপহার দেয়। হিমেশের ‘আপ কা সুরুর’ ছিল সেই সময়ের সুপারহিট অ্যালবাম। এরপর থেকেই ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে ননফিল্মি গানের জোয়ার। বর্তমান সময়ে বেশকিছু পাঞ্জাবী পপ ও র‍্যাপ গান শোনা গেলেও সেগুলো প্রাণহীন। মূল কণ্ঠ ছাপিয়ে শুধু অটো টিউনারের খেলা আর সফটওয়্যারের কারসাজী।

সূত্রঃ এমটিভি ইন্ডিয়া, অল মিউজিক ডট কম ও উইকিপিডিয়া


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com