শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

রূপকথার রাজ্যে

জেমস ফারগুসনের বাংলো । লোভাছড়া চা-বাগান ; কানাইঘাট; সিলেট

ফাহমিদা লুমা :: পাহাড়ের এক অমোঘ আকর্ষণ রয়েছে। এই নেশায় যারা বুঁদ হননি তাঁদের পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। হেমন্তের চমৎকার রৌদকজ্বল ছুটির দিনে প্রিয় কিছু সহকর্মীর সাথে আজ ঘুরে এলাম বাংলাদেশের একেবারে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় অবস্থিত মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত লোভাছড়া চা- বাগানে।

পাহাড়ি রাস্তায় সবুজে মোড়া সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম জেমস লিও ফারগুসনের ছবির মতো সাজানো বাংলোতে। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের কোলে লোভা নদীর তীরে অনন্য সুন্দর এই বাংলোটি গড়ে তুলেছেন জেমস ফারগুসনের পরিবার।

লোভাছড়া চা বাগানের মালিক জেমস ফারগুসনের পৈতৃক নিবাস সুদূর স্কটল্যান্ড। তিনি সিলেটর কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপাশা ইউপির চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সিলেটের ৫ নং সাব সেক্টরের অধীনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

জেমস ফারগুসনের জন্ম লোভাছড়া চা বাগানে। তাঁর মা জুন ফারগুসন লোভাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) ছিলেন। তৎকালীন ভারত পাকিস্তানে তিনিই ছিলেন কোন চা-বাগানের প্রথম নারী ব্যবস্থাপক। পরে তারা লোভাছড়া চা-বাগানের মালিক হন।

জেমস ফারগুসনের বাংলো । লোভাছড়া চা-বাগান ; কানাইঘাট; সিলেট

হরেকরকম ফুলে ভরা এই আবাস। ফুলের ভারে গাছগুলো যেন অভিবাদনের ভঙ্গিতে নুয়ে পড়ছে। পুরনো আমলের শনে ছাওয়া অভিজাত বাংলো। চোখের সামনে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ রেঞ্জ। কালচে সবুজ পাহাড়ের গায়ে কে যেন বাটারক্রীম লাগিয়ে দিয়েছে। এতো সুন্দর বরফ সাদা মেঘের কারুকাজ।

খোলা ডাইনিংয়ে সুরুচিসম্পন্ন প্রিন্টেড টেবিল কভার সুশোভিত ডাইনিং টেবিলে এলাহি ভোজের আয়োজন। চমৎকার আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা সহকারী কমিশনার লুসি কান্ত হাজং ও জেমস ফারগুসন সাহেবকে।

লোভাছড়ার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা ” ঝুলন্ত সেতু”। ১৯২৫ সালে ইংরেজরা লোভাছড়ায় যাতায়াতের জন্য সেতুটি নির্মাণ করেন। এই ঝুলন্ত সেতুর উপর দাঁড়িয়ে লোভাছড়ার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সম্ভবত এটি সিলেটের একমাত্র ঝুলন্ত ব্রিজ।

দূরে সবুজ পাহাড়ে মেঘেদের বরফ সাদা আস্তরণ ; পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে চলা লোভা নদী মনে হয় যেন LED – স্ক্রিনে দেখা কোন দৃশ্য ! এতো জীবন্ত ! যেন চোখের সামনে এক রূপকথার রাজ্য।

গার্ডেন ফ্রেশ চমৎকার সুগন্ধি চায়ে চুমুক দিতে দিতে মনে হচ্ছিলো অনাবিল আনন্দে ভরা এই জীবন। সুখ আসলে খুঁজে নিতে জানতে হয়। রোজকার কেজো জগত থেকে বের হয়ে সুন্দর করে সময় কাটানো; একটু জিরিয়ে নেয়া; প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে একটু দম নেয়া ; বিশ্রাম নিতে শেখাও একটা আর্ট। এই ছোট ছোট উপলব্ধি ; অনুভূতি ; আনন্দ নিয়েইতো জীবন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com