শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগ ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

মৃদুভাষণ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। গত বুধবার তিনি জাতীয় পার্টিরও মনোনয়ন ফরম কিনেন। আর এর পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যই শুধু করা হয়নি, করা হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টাও।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত জানালে তিনি দল পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের মনে েহয়েছে এক-এগারোর এই সেনা কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়বে দল। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমেও এক-এগারোর সময়ের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চেয়ে একটি ঘর রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি থেকে তাঁকে মনোনয়ন চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গত নির্বাচনেও ফেনী-৩ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ কাউকে প্রার্থী করেনি। যদিও ওই নির্বাচনে জিতেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের রহিমউল্লাহ। এবারও এই আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে।

এক-এগারোর সময় কি ভূমিকা পালন করেছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আসুন জেনে নেই।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার সংবিধান সংশোধন করে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চাইলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ অন্য বিরোধী দলগুলো তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এই অবস্থায় জনমত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টাদের নিয়োগ করে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন।

ওই বছর ৩ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগসহ সম্মিলিত বিরোধী দল। তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সরকার দমন-পীড়ন শুরু করে। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ওই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সশস্ত্র বাহিনী। ফখরুদ্দীন আহমদের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিয়ে এক কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা সংশোধন ও দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তখন সেনাবাহিনীর ৯ ডিভিশনের (সাভার) জিওসি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। বলা হয়, তাঁর সাহসী ভূমিকায় ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার উত্খাত হয়। পরবর্তী সময়ে ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেনা সমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোঁরাসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com