বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। রোববার ফজর নামাজের পর তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে দুদিনের এ ইজতেমা শুরু হয়। বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল্লাহ মুনসুর। আগামীকাল সোমবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাবলিগ জামায়াতের সবচেয়ে বড় এ জমায়েত।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শামিয়ানা চটের হওয়ায় অনেকেরই মালামাল ও বিছানা ভিজে গেছে। অনেকেরই মালামাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা গেছে।

কেউ কেউ চটের শামিয়ানার নিচে পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ইজতেমায় আগত বয়স্ক মুসল্লিরা বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃষ্টি হওয়ায় শীতও বেড়েছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মুসল্লিদের জবুথবু হয়ে বসে জিকির আজগার করতে দেখা গেছে।

ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা সাধারণত ইজতেমা ময়দানের উন্মুক্ত স্থানে রান্নাবান্না করে থাকেন। বৃষ্টির কারণে তাদের রান্না করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করার পর ধীরে ধীরে ময়দানে প্রবেশ করতে থাকেন মাওলানা সাদ অনুসারী মুসল্লিরা। মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশের এ ঢল আজ সকালেও অব্যাহত থাকে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, ইজতেমা সমাপ্তির পর ইজতেমার সব মালামাল প্রশাসনের হেফাজতে থাকবে। পরে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মুসল্লিদের সার্বিক বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া মোনাজাতে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন। ১১টা ৬ মিনিটে শেষ হয় প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত।

মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের খতিব ও তাবলিগ জামাতের শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

ভারতের মাওলানা সাদ আহমেদ কান্ধলভীকে নিয়ে তাবলিগের দুপক্ষের বিরোধের মধ্যেই এবার একসঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে ইজতেমা।

বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১৬০ একর বিস্তৃত বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা অবস্থান নিয়েছেন তাদের নির্ধারিত তাঁবুর নিচে। তারা জিগির-আজগার এবং আল্লাহর ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মিলিয়েই টঙ্গীর তুরাগ তীরে যেন মুসল্লিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর ও তরুণসহ সব বয়সের মুসল্লিরা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে এবং টুপি মাথায় ইসলামের এ মেলায় শরিক হয়েছেন।

ইজতেমা ময়দানে যতটুকু চোখ যায়, শুধু দেখা মেলে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মুসল্লিদের। মাথার ওপর চটের তাঁবু, নিচে সবুজ ঘাস।

গত জানুয়ারি মাসে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে সংঘর্ষের পর ইজতেমা অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মুসল্লি নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দুপক্ষকে একসঙ্গে এনে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের কার্যক্রম শুরু করেন।

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি মুসল্লিদের আনা-নেয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা মাঠের সংস্কারকাজ এবং সেবামূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ইজতেমা মাঠে পাঁচটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, র‌্যাবের ১০টি ওয়াচ টাওয়ার, মুসল্লিদের জন্য ৩৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ, অজু, গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয়পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১৩টি গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন তিন কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয়পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আকাশ ও নৌপথে পুলিশ, র‌্যাবের নিয়মিত টহল। নিরাপত্তা চাঁদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে টঙ্গী শিল্পনগরী পুরো শহরটিকে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com