সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

সিলেট বিভাগে পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সাত দফা দাবিতে আজ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেট বিভাগের পরিবহনশ্রমিকেরা। কর্মবিরতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের দূরপাল্লার যাত্রীরা।

যানবাহন চলাচল না করায় সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে অনেকেই গন্তব্যে যেতে পারেননি। এর ছাপ লক্ষ করা গেছে নগরেও। সিলেট নগরের ব্যস্ততম সড়কগুলোয় রিকশা, মোটরসাইকেল এবং কিছু প্রাইভেট কার ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি।

পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আজ সিলেট থেকে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। সে সঙ্গে সিলেটে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন প্রবেশ করেনি। তবে সিলেট রেলস্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে ছেড়ে গেছে ট্রেন। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার কাজী শহিদুর রহমান বলেন, সিলেট রেলস্টেশনে সব ট্রেন নির্দিষ্ট সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সড়কপথে দূরপাল্লার যানবাহন না চলায় রেলপথে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়বে বলে জানান তিনি।

গত শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে সাত দফা দাবিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতির ডাক দেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে মৌলভীবাজারে শেরপুরে সহকারীর ধাক্কায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঘোরী মো. ওয়াসীম আফনানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার ধারা ৩০২ (হত্যা মামলা)–এর স্থলে ৩০৪ (দুর্ঘটনায় মৃত্যু) করা, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ১০৫ ধারায় জরিমানা পাঁচ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা করা, এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় রিকুইজিশন না করা, সড়ক মহাসড়কে তল্লাশির নামে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, পুলিশের কর্তৃক রং পার্কিংয়ের নামে হয়রানি, পুলিশের চাঁদাবাজি ও সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করা।

সরেজমিনে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যস্ততম টার্মিনালে দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহনের বাসগুলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সড়কে তেমন কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। শুধু কিছু সময় পরপর দু-একটি রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করছে। টার্মিনালে পরিবহনশ্রমিকদেরও দেখা মেলেনি। কিছু সময় পরপর টার্মিনালে রিকশায় করে দু-একজন যাত্রী দেখা গেছে। তবে পরিবহন ধর্মঘটের কথা শুনে তাঁরা আবার ফিরে যাচ্ছেন।

বাস টার্মিনালে আসা মৌলভীবাজারের রাজীব দাশ বলেন, ‘সিলেটে জরুরি একটি কাজে রোববার এসেছিলাম। আজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু টার্মিনালে এসে জানতে পারলাম ধর্মঘট। সড়কপথে যেকোনো সময় যানবাহন পাওয়া যায়। সে জন্য বাসেই যাতায়াত করি। তবে কয়েক দিন পরপর পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে পুলিশ প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদার আলা মুসা। তিনি বলেন, ধর্মঘটের নামে যানবাহন আটকালে, হামলা করলে কিংবা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব আলীর দাবি, পরিবহনশ্রমিকেরা সাত দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছেন। সকাল-সন্ধ্যা কর্মবিরতির পর দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এদিকে আমাদের কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজার জেলাতেও আজ ভোর থেকে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। মাঝেমধ্যে সিএনজিচালিত দু-একটি অটোরিকশা চলাচল করলেও কমলগঞ্জে পরিবহনশ্রমিকদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

শমশেরনগরের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুস সামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকেরা নিজেরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এখানে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের যানবাহন আটকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। পরীক্ষার্থীদের অনেককেই হেঁটে কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা গেছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com