শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

রহস্য-রোমাঞ্চে ভরা বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়

সাব্বিরুল হক :: পাথারিয়া পাহাড় রহস্য-রোমাঞ্চে ভরা । পদে পদে অজানার হাতছানি । অবস্থান মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় । আদি নাম আদম আইল।
এই পাহাড়ের পানি পড়ে তৈরি হয়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। পাথারিয়ার দূরত্ব সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁঠালতলী থেকে ৮ কিলোমিটার।

পাহাড়ে আছে ঝেরঝেরি, কাখড়া ছড়ি, ফুল ঢালনি আর ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝর্ণা। ঝর্ণাগুলোর এমন অভিনব নাম দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শুধু নামকরণেই আলাদা টান নয়, ঝর্ণাগুলো পাথারিয়া পাহাড়কে সাজিয়েছেও অন্যরকম সৌন্দর্যে ।

উঁচু-নিচু টিলা সবুজ বৃক্ষরাজিতে ছাওয়া পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা প্রবাহমান পানি ছড়া দিয়ে সমতলে নেমে আসছে। ছড়ার পানি ছোট-বড় পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলছে। দুর্গম এই ছড়া দিয়ে হেঁটে ঝরনার কাছে যেতে যত বিপত্তি ক্লান্তি আসুক না কেন, ছড়ার স্বচ্ছ শীতল পানি, চারদিকের সবুজ প্রকৃতি, বনফুল, শাসনি লেবুর সুবাস, পাখি ও ঝিঁ ঝিঁ পোকার কলতান সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।

এক হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটি ছিল গভীর অরণ্য এবং এখানে পাথরি নামে নাগা জনগোষ্ঠীর একটি উপশাখার অধিবাসীরা বসবাস করত। কালক্রমে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর নামে অরণ্য অঞ্চলের নাম হয়ে গেছে ‘পাথারিয়া’।

২৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাথারিয়া পাহাড়ের বিস্তার। এটি বাংলাদেশের সাথে ভারতের পূবদিকের সীমান্তবর্তী খাসিয়া-জয়ন্তীয়া উচ্চভূমির বর্ধিত অংশ যার অপর অংশ ভারতের আসামে বিস্তৃত। পাথারিয়ার উঁচু চূড়া থেকে ভারতের করিমগঞ্জ জেলাকে দেখা যায়।

আগে এখানে প্রচুর কমলালেবুর গাছ থাকলেও এখন পরিমাণে কমে গেছে। এই বনাঞ্চলটি আগর-আতর গাছের জন্যও বিখ্যাত। যেসব প্রাকৃতিক উদ্ভিদ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছেঃ নাগকেশর, পালান, বাঁশ, বেত, কালাকস্তুরী বা মুশকদানা ও বনঢ্যাড়শ।

খনিজ সম্পদের মধ্যে পাথারিয়া পাহাড়ে আছে তেলকূপ। ১৯৩৩ সালে তৎকালীন সরকার বার্মা ওয়েল কোম্পানিকে (বিওসি) দিয়ে তেল উত্তোলনের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীকালে তেলের পাইপ ফেটে যায় এবং স্থানীয় পুরো এলাকা তেলের জোয়ারে ভাসতে থাকে তিনদিন। এই তেলকূপ বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখনও এর ভেতর তেলের মজুদ আছে। বন্ধ করে রাখা কূপের ঢাকনার ওপর কান পাতলে শোনা যায় মাটির নিচে তেলের গম গম শব্দ।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com