রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

স্বামীর পাঠানো টাকা চাওয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা চাওয়ায় ফৌজিয়া খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনা ঘটেছে পাবনার আমিনপুর থানার ত্রিমহনী গ্রামের গেদা মণ্ডলের বাড়িতে।

অগ্নিদগ্ধ ফৌজিয়া গেদা মণ্ডলের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী সুরমান মণ্ডলের স্ত্রী।

ফৌজিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তার ননদ শামেলা খাতুনকে আটক করেছে।

এদিন দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে ফৌজিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী সুরমান মণ্ডল মালয়েশিয়া থেকে প্রতি মাসে তাকে দেওয়ার জন্য আলাদা করে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। সেই টাকা আসে ননদ শামেলা খাতুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তবে কয়েক মাস ধরে তার ননদ এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন যোগসাজস করে সেই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। বুধবার রাতে টাকা চাওয়া নিয়ে প্রথমে ঝগড়া লাগার এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, কারা কারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তাদের সবার নাম ফৌজিয়া পুলিশকে জানিয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ ফৌজিয়ার ভাই সাগর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দুলাভাই সংসারের খরচ চালাতে বোনের জন্য টাকা পাঠালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেই টাকা দিত না। আমার বোন সংসার খরচের টাকা চাইতে গেলেই উল্টো বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার কথা বলে মারপিট করতো।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়েছে।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একজনকে আটক করা হয়েছে, অন্যরা পলাতক রয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com