বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯, ১০:১২ অপরাহ্ন

ঘরের মাঠে পাক ধোলাই জিম্বাবুয়ে

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠেই মগজ ধোলাই হল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দিন যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের। নিজেদের চেনা মাঠেই বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি হ্যামিল্টন মাসাকাদজারা।

বিশ্বকাপের বাছাইয়ে বাজে খেলা দলটি জয়ে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নামে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তাদের খেলা, সেটা পুরোপুর ব্যর্থ। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচেও সেভাবে লড়াই করতে পারেনি স্বাগতিকরা। যে কারণে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরুতে পারেনি হ্যামিল্টন মাসাকাদজার নেতৃত্বাধীন দলটি।

আগের চার ম্যাচের চারটিতেই পরাজিত হয় জিম্বাবুয়ে। রোববার শেষ ম্যাচে স্বান্তনার জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমেও পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া ৩৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩১ রানে পরাজিত হয় জিম্বাবুয়ে।

রোববার জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ে স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ফখর জামানের সঙ্গে ১৬৮ রানের জুটি গড়েন ওপেনার ইমাম-উল-হক। আগের ম্যাচে ডবল সেঞ্চুরি করা ফখর জামান এদিন ৮৫ রান করার মধ্য দিয়ে ৩৮ বছরের পুরোনো ইতিহাস ভেঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম এক হাজার রানের মাইল ফলক স্পর্শ করেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। একদিনের ক্রিকেটে মাত্র ১৮ ইনিংস খেলে হাজারি ক্লাবের সদস্য হয়ে যান ফখর জামান।

এর আগে ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ২১তম ইনিংসে ৬৫ রান করার মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে এক হাজার রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ভিভ রিচার্ডস।

৮৫ রানে ফখর জামান ফিরে গেলেও সেঞ্চুরি করে থামেন ইমাম। ১০৫ বলে আট চার ও এক ছক্কায় ১১০ রান করেন ইমাম-উল হক। গত শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। জিম্বাবুয়ে সফরে পাঁচ ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের এই উদীয়মান ব্যাটসম্যান। মাত্র ৯ ম্যাচ খেলে চারটি সেঞ্চুরি তুলে নেনে ইনজামাম-উল-হকের ভাতিজ।

রোববার ইমাম-উল-হক এবং বাবার আজমের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৬৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্কতার সঙ্গে খেলে জিম্বাবুয়ে। ব্যর্থতা এড়াতে এদিন প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। তবে বড় কোনো জুটি এবং সেঞ্চুরির মতো কোনো ইনিংস গড়তে না পারায় শেষ বল পর্যন্ত খেলেও পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন রায়ান মুরে। এছাড়া ৪৪ রান করেন পিটার মুর। পাকিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন হাসান আলী ও মোহাম্মদ নওয়াজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৬৪/৪ (ইমাম ১১০, বাবর ১০৬*, ফখর জামান ৮৫)।

জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৩৩/৪ (রায়ান মুরে ৪৭, পিটার মুর ৪৪*; হাসান ২/৫৫, নওয়াজ ২/৪৭)।

ফল: পাকিস্তান ১৩১ রানে জয়ী।

সিরিজ: পাকিস্তান ৫-০তে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: বাবর আজম (পাকিস্তান)।

সিরিজ সেরা: ফখর জামান (পাকিস্তান)।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com