রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জের নার্স তানিয়া হত্যায় তিনজন জড়িত

তানিয়া হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত কয়েকজন

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চলন্ত বাসে নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় তিনজন জড়িত এবং এরা তিনজনই কিশোরগঞ্জের বাইরের লোক। আর এদের দুজনই পুলিশ হেফাজতে আছে। অন্যজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আর এ মামলার তদন্তের এসব অগ্রগতি ও সাফল্য নিয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রোববার দুপুর দেড়টায় কিশোরগঞ্জের মিডিয়া কর্মীদের মুখোমুখি হবেন বলে  জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা রহস্যের জট পুরোপুরি উন্মোচিত করা সম্ভব হয়েছে। রোববারই মিডিয়ার সামনে সব তুলে ধরা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়া বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে প্রথম রোজা রাখার উদ্দেশ্যে গত ৬ মে সোমবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে ফিরছিলেন।

সন্ধ্যার পর তিনি বিমানবন্দর থেকে মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুরের পিরিজপুরে চলাচলকারী স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে উঠেন।

বাসে গাজীপুর জেলার সীমানা পার হওয়া পর্যন্ত বাবা গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকদফা কথা বলছিলেন।কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে তানিয়া চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন এবং ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুরের গজারিয়া জামতলী এলাকায় বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনা দেখে দুই ব্যক্তি তানিয়াকে অজ্ঞাত পরিচয়ের নারী হিসাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে থানায় খবর দেন।

মঙ্গলবার ভোরবেলা খবর পেয়ে তানিয়ার স্বজনরা হাসপাতালে এসে এ লাশ তানিয়ার হিসাবে শনাক্ত করেন।

স্বজনরা তানিয়াকে নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগ তুললে পুলিশ স্বর্ণলতা পরিবহনের ওই বাসের চালক নূরুজ্জামান এবং হেলপার লালনকে গ্রেফতার করে। একই দিন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তে তানিয়াকে ধর্ষণ করে হত্যা করার কথা জানান ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের চিকিৎসক দল।আর তখন এ ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনা হিসাবে মামলা নেয় পুলিশ।

তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসচালক নূরুজ্জামান, হেলপার লালন ছাড়াও আল আমিন ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে অন্য দুই ব্যক্তিকে এ মামলায় আসামি করেন। দেশ তোলপাড় করা এ ঘটনা সামাল দিতে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে রফিক, বকুল ও খোকন নামে আরও তিন ব্যক্তিকে।

পুলিশ ওই পাচঁজনকে গত বুধবার আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করলে বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন তাদের প্রত্যেককে ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাসচালক ও হেলপারসহ এ পাঁচজনকে রিমান্ডে নেয়ার তিনদিনের মাথায় শনিবার পুলিশ এ অগ্রগতির কথা জানায়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com