রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

দলের প্রয়োজনে বদলে গেছেন তামিম

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মারকুটে ব্যাটসম্যান’- তামিম ইকবালের সঙ্গে তকমাটি সেটেই গিয়েছিল। দেশসেরা এ ওপেনার ক্রিজে নামলে কতক্ষণ টিকে থাকবেন তাও ছিল অনিশ্চিত। ব্যাটে ঝড় তুলে ফিফটি বা সেঞ্চুরি হলে তো ভালো, নয়তো দলকে শুরুতেই বিপদে ফেলে ফিরতেন সাজঘরে। কিন্তু সেই তামিমকে অধিনায়ক মাশরাফি দায়িত্ব দিয়েছেন অন্তত ৪০ ওভার পর্যন্ত খেলার। সম্ভব হলে অপরাজিত থেকেই যেন মাঠ ছাড়তে পারেন সেই দাবিও টিম ম্যানেজম্যান্টের। এমন চাওয়াটা এক সময় হয়তো কল্পনার বিষয় হতো। কিন্তু আদতেই নিজেকে বদলে ফেলেছেন তামিম ইকবাল। বিশেষ করে তার ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেট দেখলেই তা ষ্পষ্ট।
২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ৫৮.৯০ গড়ে ৪৮ ইনিংসে ২ হাজার ৪১৫ রান করেছেন তামিম ইকবাল। স্ট্রাইক রেট ৭৮.৩৩। আর ২০১৭ থেকে তার গড় ৬৪.৫৪ ও স্ট্রাইক রেট ৭৭.৮০। বলার অপেক্ষা রাখে না স্ট্রাইক রেট কমিয়ে নিজের ব্যাটিং গড়ের উন্নতি ঘটিয়েছেন দেশসেরা এই ওপেনার। সেই কারণেই তার কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রত্যাশা সবার। নিজের এই বদলে ফেলা নিয়ে তামিম বলেন, আমি দেড়শ স্ট্রাইক রেটে খেললাম, কিন্তু দল হারলো। লাভ কী? কিন্তু ৬০ স্ট্রাইক রেটে খেলে সেটা দলের জয়ে লাগলে আমি খুশি। দল চায় আমি যেন ৩০-৩৫ বা ৪০ ওভার পর্যন্ত খেলি। যখন আরেকপাশে উইকেট পড়ে, তখন আরো বেশি করে চায় আমি যেন টিকে থাকি। আমাকে এসব মাথায় রাখতে হয়।’

তামিম ইকবালের কথাতে স্পষ্ট দলের প্রয়োজনেই নিজেকে বদলে ফেলেছেন তিনি। নিজের ইচ্ছাকে দমন করেছেন কঠোরভাবে। আর আয়ারল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচ সামনে রেখে তামিম স্মরণ করলেন সাবেক গুরু জেমি সিডন্সকে। তামিম বলেন, ‘আচ্ছা, ১১০-১২০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করলে আমার নিজের কি ভালো লাগবে না? একসময় অফ সাইড ছাড়া খেলতে পারতাম না। লেগে শটই ছিল না। তখনই আক্রমণাত্মক খেলেছি, এখন অনেক শট আছে হাতে। চাইলে শট খেলার চেষ্টা করতে পারি না? আমার কি অ্যাডভেঞ্চারাস হতে ইচ্ছে করে না? কিন্তু আমরা খেলি দলের জন্য। দলের চাওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই।’ তবে স্ট্রাইক রেট বাড়াতে যে চান না তা নয়, ইচ্ছাটা দমিয়ে রাখলেও ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে সেটি দলের প্রয়োজন বুঝেই করছেন।

তামিম বলেন, ‘আমি নিজেও জানি, যদি স্ট্রাইক রেট নব্বইয়ে নিতে পারি, তাহলে দারুণ হয়। নিজের ব্যাটিংকে যদি পরের ধাপে নিতে চাই, তাহলে স্ট্রাইক রেট বাড়ানো জরুরি। আপনারা যেটা বুঝছেন, আমি কেন বুঝবো না? কিন্তু সেটা করতে গিয়ে আমি যদি দলের ক্ষতি করি, সে স্বার্থপরতা আমি দেখাতে পারবো না। এই শিক্ষাটা আমি পেয়েছিলাম জেমি সিডন্সের কাছ থেকে। তিনি সবসময় একটা কথা বলতেন, যখন ব্যাটিংটা ঠিকমতো হয় না, দুটি ব্যাপার হতে পারে। উইকেট ছুড়ে এসে ড্রেসিংরুমে আমাদের সঙ্গে বসে থাকতে পারো অথবা উইকেটে লড়াই করো।’ ২০০৭’র অক্টোবর থেকে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব সামলান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান জেমি সিডন্স।

ক্যারিয়ার শেষে ‘যা’ নিয়ে আফসোস হবে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ১৪৪ রানের জুটিই বদলে দেয় সব কিছু। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। তবে দুই ওপেনারই সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে ভক্তদের পুড়িয়েছেন আফসোসে। সৌম্য ৭৩ ও তামিম ইকবাল সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৮০ রানে। আর তামিমের ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ বার আশি ছুঁয়ে আউট হয়েছেন তামিম। তার মধ্যে অপরাজিত থেকেছেন আরো ৪ বার। তাই সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার খুব একটা দুঃখ নেই তার। দল জিতেছে এতেই খুশি। তবে এই দুঃখটা যে এক সময় হবে না তা নয়। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হলে বুঝতে পারবেন কি হারিয়েছেন তিনি। নিজের এই আফসোসের কথা আগেভাগেই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে তামিম। তিনি বলেন, ‘আফসোস হতে পারে হয়তো ক্যারিয়ার শেষে, যখন পেছন ফিরে তাকাবো। যতবার আশিতে আউট হয়েছি, তার অর্ধেকও সেঞ্চুরিতে নিতে পারলে ক্যারিয়ার হয়তো আরও সুন্দর দেখাতো। কিন্তু যা হয়ে গেছে, হয়েই গেছে। আফসোস করেও লাভ নেই। চেষ্টা করবো সামনে যদি সুযোগ আসে, ছুড়ে যেন না দেই। যদি ভালো বলে আউট হই বা ভালো শট খেলেও আউট হয়ে যাই, তাহলে অন্য কথা। কিন্তু ছুড়ে যেন না আসি।’

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাতছাড়াকে ভাগ্যের ঘাড়ে চাপিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন ‘আশিতে আউট হলে আফসোস হওয়ারই কথা। বেশিরভাগ সময়ই নিজের দোষে আউট হয়েছি। এমন কিছু করতে গিয়েছি, যা করার দরকার ছিল না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্য ছিল। সবশেষ ইনিংসটিতে যেমন, যে বল ছিল, সেই শটই খেলেছি। ভাগ্য খারাপ ছিল যে সোজা ফিল্ডারের হাতে চলে গেল। ভালো ক্যাচও নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আফসোস ততটা থাকে না। সেঞ্চুরির চেয়ে আমার বেশি আফসোস থাকে বা ছিল খেলা শেষ করে আসতে না পারা।’


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com