রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

চোখের সমস্যা ৫০ শতাংশ বাসচালক ও হেলপারের

রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের চালক ও হেলপারদের মধ্যে ৫০ শতাংশই চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশের ধারণা, তাদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে। অথচ ৭২ শতাংশ চালক ও হেলপার জীবনে কখনও চোখের ডাক্তারের কাছে যাননি।

সম্প্রতি সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে চিকিৎসা নেওয়া ১২ শতাধিক চালক ও হেলপারের ওপর জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ঢাকা ওয়েস্টের যৌথ উদ্যোগে ওই চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘পঞ্চম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন, বিআরটিএর পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. তারা কেশরাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (বার্তা) ড. সৈয়দা তাসমিয়া আহমেদ, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাহিদ ফেরদৌসী ও ডা. জহিরুল ইসলাম এবং জেসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ইরফান ইসলাম। মালিক-শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সভায় অংশ নেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তুম আলী খান এবং ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক হোসাইন আহমেদ মজুমদার।

প্রেজেন্টশনে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, চক্ষুশিবিরে চিকিৎসা নেওয়া চালক ও হেলপারদের মধ্যে ২১ শতাংশই দৈনিক ১২-১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। তাদের মধ্যে ১২ শতাংশের চোখের ছানির অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, ড্রাইভারদের চোখের চিকিৎসায় আরও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডা. নাহিদ ফেরদৌসী চালকদের চোখের স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে জোর দেন। ডা. জহিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে চালকদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে গাইডলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ ব্যাপারে চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর আগে, ২৩-২৪ এপ্রিল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত চক্ষুশিবিরে ১২ শতাধিক চালক ও হেলপারকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ৩০ জন ডাক্তার ও মেডিকেল আ্যসিসট্যান্ট। প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে জেসিআই। দু’দিনব্যাপী এই শিবিরে ৭৬ শতাংশ রোগীকে চশমা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ১২ দশমিক ৬ শতাংশের চোখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওষুধ দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ রোগীকে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com