শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

শীর্ষে নর্থ সাউথ দ্বিতীয় ব্র্যাক

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২০১৯ সালে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর র‌্যাংকিং করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হয় এ গবেষণা।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০১টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। এই গবেষণার . মূল লক্ষ্য হলো, এই ইউনিভার্সিটিগুলোকে একটি র‌্যাংকিংয়ের আওতায় আনা। ৬৫টি ইউনিভার্সিটিকে এই গবেষণার আওতাভুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যে ৪১টি ইউনিভার্সিটিতে এখনও কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি, ১২টি ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র ভর্তি-প্রক্রিয়ায় ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আটটি ইউনিভার্সিটিতে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি, তিনটি ইউনিভার্সিটি বিশেষায়িত ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত এবং একটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজারের নিচে থাকায় এসব ইউনিভার্সিটিকে বাদ দিয়ে বাকি ৩৬টির মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ফ্যাকচুয়াল ও পারসেপচুয়াল এই দুটির স্কোরের সমন্বয়ে চূড়ান্ত র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে।

র‌্যাংকিং অনুয়ায়ী প্রথম ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ও দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

ফ্যাকচুয়াল স্কোর নির্ণয়ে বিবেচ্য হয়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা, গবেষণায় খরচ ইত্যাদি। এই তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে সরাসরি ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছ থেকে। যেসব ইউনিভার্সিটি তথ্য সরবরাহ করেনি, কেবল সেসব ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ড কমিশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্যাকচুয়াল তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফ্যাকচুয়াল র‌্যাংকে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, তৃতীয় স্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, চতুর্থ স্থানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস ও পঞ্চম স্থানে আছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

পারসেপচুয়াল স্কোরগুলো নেওয়া হয়েছে একাডেমিক (ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার) ও চাকরিদাতাদের কাছ থেকে। তারা বিভিন্ন সূচকে নিজেদের স্কোর দিয়েছেন। যেমন, শিক্ষার পরিবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষকদের মান, চাকরি ক্ষেত্রে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি। পারসেপচুয়াল র‌্যাংকে দেখা যায়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, তৃতীয় স্থানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, চতুর্থ স্থানে আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

‘ফ্যাকচুয়াল স্কোর’ করা হয়েছে কয়েকটি ক্যাটাগরির ওপর। যেমন- মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা, লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা, গবেষণা ব্যয়, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা, ক্যাম্পাসের আয়তন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত, পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার ও গবেষণাপত্রের সংখ্যা।

এসব ক্যাটাগরিতে দেখা যায়, গবেষণা ব্যয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। তাদের বার্ষিক গবেষণায় ব্যয় ৪৮.২৩ কোটি টাকা। যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ব্যয় করেছে ৭.৬৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি ব্যয় করেছে ৫.০৪ কোটি টাকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যয় ৪.৩৪ কোটি টাকা। শীর্ষ পাঁচের পাঁচ নম্বরে থাকা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষণা ব্যয় ৩.৯৮ কোটি টাকা।

গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৫৩৪টি। শিক্ষার্থী সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০ হাজার ২৫ জন। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যার দিক থেকে এবার শীর্ষে আছে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম। তাদের লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬১০টি।

শিক্ষার মান ও গবেষণার মান নিশ্চিত করার জন্য পিএইচ ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষকের গুরুত্ব রয়েছে ইউনিভার্সিটিতে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৪০৩ জন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে ১৯৫ জন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৭০ জন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে রয়েছেন ১৫৩ জন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা ১৩৪ জন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, সার্বিক সুখ্যাতির মানদণ্ডের বিচারে পাঁচটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে যথাক্রমে- নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহ্‌ছানউল্লা, ইস্ট ওয়েস্ট ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি। অবকাঠামোর বিচারেও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সেরা। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিভার্সিটি হচ্ছে যথাক্রমে- আহ্‌ছানউল্লা, ইস্ট ওয়েস্ট ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি।

২০১৭ সালের র‌্যাংকিংয়ের সঙ্গে এ বছরের র‌্যাংকিংয়ের তুলনা করলে দেখা যায়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে পেছনে ফেলে এক নম্ব্বরে উঠে এসেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ফ্যাকচুয়াল স্কোরে বিশ্ববিদ্যালয়টি শীর্ষস্থানে না থাকলেও পারসেপচুয়াল স্কোরে নর্থ সাউথ শীর্ষে রয়েছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরও পারসেপচুয়াল স্কোরে প্রথম হয়েছিল।

ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে একটি উপদেষ্টা কমিটির তত্ত্বাবধানে। কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধ্যাপক ড. আজমেরি খান, ওআরজি কোয়েস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুরুল হক, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, প্রথম আলোর হেড অব রিপোর্টার শরিফুজ্জামান পিন্টু, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী সাঈদ আহমেদ।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com