বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯, ০৯:১২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট ফজল চালাবেন কি না সিদ্ধান্ত শুক্রবার

প্রতীকী ছবি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রীকে আনতে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ নিয়ে কাতারের দোহা বিমানবন্দরে যাওয়ার পর পাসপোর্ট না থাকায় সেখানকার ইমগ্রেশনে আটক পাইলট ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট পাঠানো হয়েছে। রিজেন্ট এয়ারে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পাঠানো পাসপোর্টটি রাতেই সেখানে পৌঁছার কথা। তবে ফজল মাহমুদকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে কি না তা আগামীকাল শুক্রবার ঠিক করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দেশে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। শনিবার (৮ জুন) দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি নিয়ে বুধবার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু সঙ্গে পাসপোর্ট না থাকায় তাকে আটকে দেয় কাতার ইমিগ্রেশন। সেখানেই এখন অবস্থান করছেন তিনি।

তার তথ্যমতে, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট অপারেশন কক্ষের লকারে তার পাসপোর্ট রেখে গিয়েছেন। পরে সেখানে সেটি পাওয়া যায় এবং দোহায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কেউ পাসপোর্ট নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। অবশেষে দুই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর রিজেন্ট এয়ার পাসপোর্টটি নিয়ে যায়।

যে বিমান প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে দেশে নিয়ে আসার কথা, তার পাইলট পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে দেশের ইমিগ্রেশন পার হলেন এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিমান কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে তাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে কি না।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বিমানের পাইলটকে এক দিন আগে গন্তব্যে উপস্থিত থাকতে হয়। শুক্রবার যদি কোনো নতুন পাইলটকে পাঠানো হয়,তার কোনো বিশ্রামের সুযোগ থাকবে না। আবার পাসপোর্ট ছাড়া দোহা বিমানবন্দরে আটকে পড়ে সমালোচনায় বিদ্ধ ফজল মাহমুদ বিচলিত অবস্থায় আছেন। কাজেই তাকে প্রত্যাহার করা হবে, নাকি তাকে দিয়েই ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে সে ব্যাপারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সরকার বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফজল মাহমুদ পাসপোর্ট ছাড়া কেন যাচ্ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্তের পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই ধরনের কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক। বিষয়টিকে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পাইলট দেশে ফেরার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের ক্রুর পাসপোর্ট না থাকা বড় ধরনের অপরাধ বলে জানান বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তারাও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com