বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

মিশরের নতুন ভিসা অফিস , রেসিডেন্ট কার্ড চালু ও নাগরিকত্ব প্রদান প্রসঙ্গ

উজ্জ্বল হোসেন খান, মিশর থেকে :: আজ রবিবার মিশরের ইমিগ্রেশন বিষয়ক উপ মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে নতুন অফিস দেখতে গিয়েছিলাম। আগামী কাল এটি চালু হবে। সত্যিই বিশাল ব্যাপার। ৪০০০০ (চল্লিশ হাজার ) স্কয়ার মিটারের বিশাল ৭ তলা বিশিষ্ট অফিস। এখন আর লাইনে দাড়াতে হবে না । ব্যাঙ্কের মত কিউস্ক ( টোকেন মেশিন) থেকে সিরিয়াল নিয়ে বসে থাকা যাবে। ডিসপ্লেতে সব দেখাবে। কোন কাউন্টারে যাবেন তা নিয়েও সমস্যা থাকবে না। আপনার ভিসা বা আউটপাশ রেডি কিনা সেটাও ডিসপ্লেতে দেখতে পারবেন। ডিজিটাল সিস্টেম অটোমেটিক ভয়েস এনাউন্স করবে। বিভিন্ন ধরনের ভিসা ও আউট পাশ অনেক দ্রুত হবে এখন।

আগে সব কিছু ম্যানুয়াল হতো এখন ফুল অটোমেটিক। যে ৪০ টি দেশ ই ভিসা পাবে তাদের নাগরিকরা অনলাইনে সব ফর্মালিটি ও পেমেন্ট শেষ করে শুধু ডেলিভারির দিন এসে ভিসা নিয়ে যেতে পারবে। তবে বাংলাদেশ এ তালিকাতে নেই। সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হচ্ছে ভিসা সংক্রান্ত সকল কিছু এখন এক বিল্ডিং এ। আগে মুয়াফাকার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতো এখন আর লাগবে না। ভবনের তিন তলায় রেসিডেন্ট কার্ড ডিপার্টমেন্ট দেখে প্রশ্ন করলাম এটার কাজ কি ? মহা পরিচালক বললেন এখন থেকে যে সকল বিদেশী যারা মিশরে বৈধ ভাবে থাকবে তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইলেকট্রনিক রেসিডেন্ট কার্ড দেয়া হবে। ফলে মিশরীয় নাগরিকদের মত শুধু কার্ড দিয়েই বিদেশী নাগরিকদের প্রাপ্য সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা পাবে। এমনকি রিয়েল এস্টেট ক্রয় কিংবা ব্যাংক একাউন্ট এই কার্ড দিয়েই করতে পারবে। ফলে মিশরের ভেতরে আর পাসপোর্ট নিয়ে চলাফেরা করতে হবে না।

সবচেয়ে অবাক হলাম ৬ তলার ইজিপশিয়ান সিটিজেন ‍অ্যাপলিকেশন এন্ড সেটেলমেন্ট সেন্টার দেখে। প্রশ্ন করলাম মিশরের নাগরিকত্ব প্রদান এখনো তো শুরু হয়নি। এখনি এতো বড় ফ্লোর বরাদ্ধ ? পরিচালক হেসে বললেন শুধু ফ্লোর বরাদ্ধ নয় সকল প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়ে গেছে। এমনকি সাংবিধানিক ভাবে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিদেশী নাগরিকদের মিশরীয় নাগরিকত্বের আবেদন চূরান্ত অনুমোদন দেয়ার জন্য যিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট এর পক্ষে স্বাক্ষর করবেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। যে কোন দিন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি এ বিষয়ে ঘোষনা দিবেন। তার পরই আবেদন গ্রহন ও তা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিস্পত্তি করা হবে। নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত ও নিয়ম বলতে গেলে লেখা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশীরা আশাবাদি হতে পারেন। ছাত্র থেকে শুরু করে ব্যাবসায়ী ও যাদের মিশরে পরিবার আছে তারা সহজেই মিশরের নাগরিকত্ব পাবেন বলে আশা করি।

আর হ্যা বাংলাদেশীরা যারা ইংরেজী বা আরবী লেখা না জানেন তারা অবশ্যই সাথে শিক্ষিত কাউকে নিয়ে যাবেন। বিশাল ব্যাপার আর সব কিছুই ডিজিটাল।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com